আটলান্টিক সিটির ক্যাসিনো খাতে হাজারো চাকরি ঝুঁকিতে, নিউইয়র্কের প্রতিযোগিতায় বাড়ছে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা
নিউইয়র্কের নতুন ক্যাসিনো, অনলাইন জুয়া ও মূল্যস্ফীতির চাপে আটলান্টিক সিটিতে আগামী দশকে হাজারো চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে।
আটলান্টিক সিটির ক্যাসিনো খাতে হাজারো চাকরি ঝুঁকিতে, নিউইয়র্কের প্রতিযোগিতায় বাড়ছে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা
নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির ক্যাসিনো শিল্পে কর্মরত হাজারো মানুষের চাকরি আগামী কয়েক বছরে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে নতুন এক অর্থনৈতিক মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন ক্যাসিনো চালু হওয়ার সম্ভাবনা, অনলাইন জুয়ার বিস্তার, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—সব মিলিয়ে আটলান্টিক সিটির প্রচলিত ক্যাসিনো ব্যবসার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
আটলান্টিক কাউন্টি ইকোনমিক অ্যালায়েন্সের একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ১০০ চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হলে এবং নিউ জার্সির উত্তরাঞ্চলে অতিরিক্ত ক্যাসিনো চালু হলে ঝুঁকিতে থাকা চাকরির সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
এই সতর্কবার্তার মূল কারণ হচ্ছে ক্যাসিনো ব্যবসার বাজার দ্রুত বদলে যাওয়া। অতীতে আটলান্টিক সিটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান জুয়া ও বিনোদনকেন্দ্র। নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে যেতেন। কিন্তু এখন অনলাইন জুয়ার সুযোগ বাড়ায় মানুষ ঘরে বসেই বাজি ধরতে পারছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক অঞ্চলে নতুন ক্যাসিনো চালুর পরিকল্পনা আটলান্টিক সিটির জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সরাসরি ক্যাসিনো কর্মীরাই নয়, এই শিল্পের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত অন্যান্য কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ক্যাসিনোকে ঘিরে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, বিনোদন, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন পরিষেবা খাতের মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ক্যাসিনো ব্যবসায় বড় ধরনের মন্দা দেখা দিলে এর প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতির অনেক স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রাথমিক বা মধ্যম পরিস্থিতিতে প্রায় ৫ হাজার ১০০ চাকরি এবং কয়েকশ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঝুঁকিতে থাকার হিসাব সামনে এসেছে। আর আরও বেশি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা তৈরি হলে চাকরি হারানোর সম্ভাব্য সংখ্যা ৮ হাজার ১০০-এর কাছাকাছি যেতে পারে এবং বার্ষিক রাজস্বের ক্ষতিও উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই সংখ্যাগুলো নিশ্চিতভাবে চাকরি হারানোর ঘোষণা নয়। এগুলো সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির পূর্বাভাস। অর্থাৎ ৫ হাজার ১০০ বা ৮ হাজার ১০০ মানুষ নিশ্চিতভাবেই চাকরি হারাবেন—এমন দাবি সঠিক নয়। বরং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিল্পের ওপর কী ধরনের চাপ পড়তে পারে, সেটিই গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।
মূল্যায়নে অনলাইন জুয়ার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং মূল্যস্ফীতিকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে ভ্রমণ, হোটেল, খাবার ও বিনোদনের খরচ বাড়লে অনেক পরিবার তাদের অবসর ভ্রমণের বাজেট কমিয়ে দিতে পারে। এতে পর্যটননির্ভর শহরগুলোতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে সম্ভাব্য নতুন ক্যাসিনোগুলো চালু হলে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য স্থানীয়ভাবে জুয়ার বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে নিউইয়র্ক থেকে আটলান্টিক সিটিতে যাওয়া কিছু পর্যটক কমে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কাই অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আটলান্টিক সিটির অর্থনীতির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শহরটির পর্যটন ও বিনোদন খাত দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো শিল্পের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে স্থানীয় অর্থনীতিকে ক্যাসিনোর বাইরেও বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এনবিসি ফিলাডেলফিয়ার প্রতিবেদনে শহরটির অর্থনীতিকে ক্যাসিনোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাসিনো ও আতিথেয়তা শিল্পে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ধরনের চাকরি রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি কর্মসংস্থান কমে যায়, তাহলে চাকরি পরিবর্তন, কাজের সময় কমে যাওয়া কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের জন্য অন্য শহরে যাওয়ার প্রয়োজন তৈরি হতে পারে।
তবে বর্তমানে আটলান্টিক সিটির সব ক্যাসিনো বন্ধ হচ্ছে বা তাৎক্ষণিকভাবে হাজারো কর্মী ছাঁটাই হচ্ছেন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং এটি আগামী প্রায় এক দশকের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে করা অর্থনৈতিক পূর্বাভাস। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি কেউ এটিকে “হাজারো কর্মী ইতোমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন” বলে প্রচার করেন, সেটি বিভ্রান্তিকর হবে।