ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মস্কোয় ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে পুতিনের নতুন শান্তি আলোচনা শুরু

মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসেছেন ট্রাম্পের দুই দূত, যুদ্ধ বন্ধে নতুন মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ।

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মস্কোয় ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে পুতিনের নতুন শান্তি আলোচনা শুরু

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মস্কোয় ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে পুতিনের নতুন শান্তি আলোচনা শুরু


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোয় পৌঁছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন।


রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা রাশিয়ার রাজধানীতে পৌঁছানোর পর পুতিনের প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ তাদের স্বাগত জানান। পরে তারা ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, তাঁর দূতেরা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি নতুন ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন। 


আলোচনার সময় যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরির জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সীমিত সময়ের জন্য রাজধানী লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। পুতিন কিয়েভে হামলায় তিন দিনের বিরতি ঘোষণা করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও মস্কো লক্ষ্য করে হামলায় সাময়িক বিরতির কথা জানিয়েছেন। 


তবে শান্তি আলোচনায় বড় বাধা এখনো রয়ে গেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে দখল করা ভূখণ্ডের বিষয়ে বড় ধরনের ছাড় এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার নিশ্চয়তা চাইছে। ইউক্রেন এসব শর্তকে আত্মসমর্পণের কাছাকাছি বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।


মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো সফরের পর কিয়েভ যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চলমান যুদ্ধের মধ্যে উইটকফ ও কুশনারের ইউক্রেন সফর মার্কিন মধ্যস্থতাকে নতুন পর্যায়ে নিতে পারে।


তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক জোট নিয়ে মতপার্থক্য অত্যন্ত গভীর।


যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরান সংঘাতে ব্যস্ত, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে মস্কো ও কিয়েভে ধারাবাহিক আলোচনা সফল হয় কি না, সেটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর