ম্যাসাচুসেটসে নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগ নিয়ে অভিজ্ঞতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন?
ম্যাসাচুসেটসে নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগ নিয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি, দ্রুত শুনানি এবং বহিষ্কার আদেশের সংখ্যা বাড়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসে নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগ নিয়ে অভিজ্ঞতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন?
ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালত ব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বোস্টন গ্লোবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির অভিবাসন আদালতে চারজন নতুন বিচারক নিয়োগ করেছে, যাঁদের অভিবাসন আইনে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বিচারকদের মধ্যে কেউ সামরিক বাহিনীর আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, কেউ কর বিভাগের আইনজীবী ছিলেন, আবার কেউ সরকারি কৌঁসুলি বা অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিবাসন আদালতের বিচারকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা কোনো অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন কি না, নাকি তাঁকে দেশ ছাড়ার আদেশ দেওয়া হবে—এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ফলে বিচারকদের অভিজ্ঞতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি সরাসরি অভিবাসীদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ম্যাসাচুসেটসে অন্তত ১৭ জন অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন অথবা পদ ছেড়েছেন। তাঁদের অনেকেরই অভিবাসন আইন বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। এরপর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের একটি অংশকে সামরিক আইন, সরকারি কৌঁসুলি বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের যুক্তি হলো, অভিবাসন আদালতে বছরের পর বছর ধরে বিপুল মামলার জট তৈরি হয়েছে। তাই নতুন বিচারক নিয়োগ এবং দ্রুত শুনানির মাধ্যমে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে দেশজুড়ে অভিবাসন আদালতের মামলার জট প্রায় ৩৭ লাখে পৌঁছেছিল। ২০২৬ অর্থবছরে সেটি প্রায় ৩২ লাখে নেমে এসেছে।
তবে অভিবাসন আইনজীবীদের একাংশ বলছেন, দ্রুত শুনানি সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে না। বিশেষ করে কোনো অভিবাসী যদি আইনজীবী খুঁজে নিতে বা নিজের প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে পর্যাপ্ত সময় না পান, তাহলে তাঁর মামলার ফল নেতিবাচক হতে পারে।
ম্যাসাচুসেটসে বহিষ্কার আদেশের সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন বিচারকেরা ১ হাজার ৬৯২টি বহিষ্কার আদেশ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের একই মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৩৮টি।
অভিবাসন নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলার গতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য, নথি ও আইনি অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিবাসন আদালতে চলমান কোনো মামলায় শুনানির তারিখ দ্রুত এগিয়ে এলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনজীবীর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কমে যেতে পারে।
তাই যাঁদের অভিবাসন আদালতে মামলা রয়েছে, তাঁদের নিজেদের শুনানির তারিখ নিয়মিত যাচাই করা এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।