নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ভোটার তালিকা থেকে তথ্য নেওয়ার ট্রাম্প উদ্যোগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল

নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ আটকে দিয়েছে আদালত, নির্বাচনের আগে তথ্যের নির্ভুলতা ও গোপনীয়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ভোটার তালিকা থেকে তথ্য নেওয়ার ট্রাম্প উদ্যোগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল

নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ভোটার তালিকা থেকে তথ্য নেওয়ার ট্রাম্প উদ্যোগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল


যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের তথ্য ব্যবহার করে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। দেশটির একটি কেন্দ্রীয় আপিল আদালত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় থাকা নাগরিকত্বের তথ্য যাচাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু আদালত বলেছে, এই ব্যবস্থায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি সমস্যা রয়েছে। 


দুই-এক সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। এর ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ওই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগ আপাতত বাধাগ্রস্ত হলো।


আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বিশেষভাবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, তথ্যভান্ডারে কোনো নাগরিকের নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য ভুল থাকলে বৈধ ভোটারকেও নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। এমনকি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কারও ভোটার নিবন্ধন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। 


রায়ের বিপক্ষে থাকা বিচারক ট্রাম্পের নিয়োগ পাওয়া বিচারক ছিলেন। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে ফ্লোরিডার একটি কেন্দ্রীয় আদালত চারটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যকে ওই তথ্যভান্ডারে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। একই সময়ে অন্য একটি আদালত দেশজুড়ে এর ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এই পরস্পরবিরোধী আইনি অবস্থানের মধ্যেই নতুন আপিল আদালতের রায় এসেছে। 


এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের পদ্ধতিতে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে কীভাবে তা যাচাই করা হবে, সেটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকত্ব যাচাইকে নির্বাচনী নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, সরকারি তথ্যের ভুল বা অসম্পূর্ণতার কারণে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত। ফলে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের এই আইনি লড়াই রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনকে বিকল্প আইনি পথ খুঁজতে হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর