পেন্টাগনে ফাঁসের ভূত, প্রায় পঞ্চাশ কর্মকর্তাকে হঠাৎ মিথ্যাশোধক পরীক্ষায় বসালেন তদন্তকারীরা

ইরান যুদ্ধের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে তথ্য ফাঁসের তদন্তে পেন্টাগনের প্রায় পঞ্চাশ কর্মকর্তা মিথ্যাশোধক পরীক্ষার মুখোমুখি, বাড়ছে অস্বস্তি ও চাপ।

পেন্টাগনে ফাঁসের ভূত, প্রায় পঞ্চাশ কর্মকর্তাকে হঠাৎ মিথ্যাশোধক পরীক্ষায় বসালেন তদন্তকারীরা

পেন্টাগনে ফাঁসের ভূত, প্রায় পঞ্চাশ কর্মকর্তাকে হঠাৎ মিথ্যাশোধক পরীক্ষায় বসালেন তদন্তকারীরা


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে গোপন তথ্য ফাঁসের তদন্ত আরও কঠোর হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত নিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তদন্তকারীরা পেন্টাগনের যৌথ সামরিক সদর দপ্তরের প্রায় ৫০ জন সদস্যকে মিথ্যাশোধক পরীক্ষার আওতায় এনেছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক—দুই ধরনের কর্মকর্তাই তদন্তের আওতায় রয়েছেন। তদন্তকারীদের মূল উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গোপন তথ্য কীভাবে বাইরে গেল, তা শনাক্ত করা।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্যের কিছু অংশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ কোনো দেশের অস্ত্রের মজুত, সরবরাহক্ষমতা কিংবা নির্দিষ্ট অস্ত্রের ঘাটতি সম্পর্কে তথ্য প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনায় কাজে লাগতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি তথ্য ফাঁস বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তর ও বিচার বিভাগের মধ্যে তথ্য ফাঁস শনাক্ত ও তদন্তের জন্য যৌথ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। 

মিথ্যাশোধক পরীক্ষায় একজন ব্যক্তির শারীরিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়। তবে এই পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। তারপরও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা এটি ব্যবহার করে থাকে।

এই ঘটনায় এখনো কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্য ফাঁসের জন্য দায়ী করা হয়নি। তদন্তাধীন ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়নি। তদন্তের উদ্দেশ্য হলো তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানো।

এর আগে পেন্টাগনের ভেতরের গোপন নথি ও সামরিক তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য নিরাপত্তা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন গোপন সামরিক তথ্য সংরক্ষণের একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় থাকা কিছু নথির প্রবেশাধিকারও সীমিত করেছে। 

যুদ্ধ চলাকালে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। কারণ সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা, অস্ত্রের সরবরাহ ও মজুত সম্পর্কে তথ্য বাইরে গেলে শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, সামরিক ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কে তথ্য ফাঁস করেছেন বা কীভাবে তথ্য বাইরে গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পেন্টাগনের তদন্ত এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর