ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থন কমছে, মাত্র এক-চতুর্থাংশ যুদ্ধকে সমর্থন করছে
রয়টার্স-ইপসস জরিপে মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়ছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থন কমছে, মাত্র এক-চতুর্থাংশ যুদ্ধকে সমর্থন করছে
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রয়টার্স ও ইপসসের সাম্প্রতিক জরিপে মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান বা যথার্থ।
এই ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত অর্থনীতি ও ভোটারদের মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জরিপটি এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও মিত্র সামরিক স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ওপর পড়ছে। আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এপি জানিয়েছে, ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে উঠেছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়িচালকদের খরচ বাড়ে না। পণ্য পরিবহন, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ এবং বিভিন্ন ব্যবসার ব্যয়ও বাড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি হতে পারে।
ইরান সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে যেকোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক তেল বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন বলছে, সংঘাতে তাদের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি কমানো। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক মন্তব্যে সংঘাতকে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত না করার অবস্থানও তুলে ধরেছেন।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় সংঘাতের রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
রয়টার্স-ইপসস জরিপে জনসমর্থনের মাত্র ২৫ শতাংশে নেমে আসা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। অতীতের দীর্ঘ সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সময়ের সঙ্গে কমে যাওয়ার নজির রয়েছে।
আগামী সপ্তাহগুলোতে জ্বালানির দাম, সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং নতুন সামরিক পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয় মার্কিন জনমতকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।