ট্রাম্প প্রশাসনের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩টি বন গবেষণাকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ
ট্রাম্প প্রশাসনের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ২৩টি বন গবেষণাকেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে, কর্মীদের বদলি হলেও পরিবেশ গবেষণা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ দেশজুড়ে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩টি বন গবেষণাকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগ ২৩টি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, কেন্দ্রগুলো এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। প্রায় ৯৫ জন কর্মী এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হলেও তাদের স্থানীয় পর্যায়ে অন্য দায়িত্বে স্থানান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বন বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, গবেষণার কাজ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বরং কিছু কার্যক্রম অন্য গবেষণা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে।
সরকারের দাবি, পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যয় কমানো এবং পশ্চিমাঞ্চলের সরকারি ভূমি ও বনসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে গবেষণাকে আরও ঘনিষ্ঠ করা সম্ভব হবে। এপি জানিয়েছে, এই পরিবর্তন থেকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বন বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয় নিয়েও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংস্থাটির সদর দপ্তর ওয়াশিংটন থেকে সল্ট লেক সিটিতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, গবেষণা অবকাঠামো কমে গেলে বন ব্যবস্থাপনা, দাবানল, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সরকারি ভূমির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে বন বিভাগ বলছে, ২৩টি কেন্দ্র বন্ধ হলেও ৪১টি গবেষণা কেন্দ্র, যেগুলো আগে বন্ধের সম্ভাব্য তালিকায় ছিল, সেগুলো আপাতত চালু থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা ও বিভিন্ন পক্ষের চাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এপি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বন বিভাগ প্রায় ৬ হাজার কর্মী হারিয়েছে, যা সংস্থাটির মোট জনবলের প্রায় ১৫ শতাংশ।
তবে গবেষণা কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘গবেষণা বন্ধ’ বলা সঠিক হবে না। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গবেষণার কিছু কাজ অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।