মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে মাঠে নামছেন ট্রাম্প, প্রায় ৩৫ আসনে প্রচারের ঘোষণা

জনপ্রিয়তা কমলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রায় ৩৫ গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেই প্রচারে নামার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে মাঠে নামছেন ট্রাম্প, প্রায় ৩৫ আসনে প্রচারের ঘোষণা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে মাঠে নামছেন ট্রাম্প, প্রায় ৩৫ আসনে প্রচারের ঘোষণা


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে সরাসরি প্রচারে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। এপি নিউজের ৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রায় ৩৫টি নির্বাচনী আসনে প্রচারে সক্রিয় হওয়ার কথা জানিয়েছেন। 


রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প তাদের নির্বাচনী প্রচারে নিজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অর্জনগুলোকে সামনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থনীতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধের দাম কমানোর মতো বিষয়কে তিনি রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য নির্বাচনী বার্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। 


তবে মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে রিপাবলিকানদের জন্য পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপে দুর্বলতার ইঙ্গিত রয়েছে এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এপি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়েও জনমতের উদ্বেগ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। 


মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রেসিডেন্টের দলের আসন হারানোর ঐতিহাসিক প্রবণতা রয়েছে। ট্রাম্প নিজেও এই ইতিহাসের কথা উল্লেখ করলেও এবার সেই প্রবণতা বদলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।


রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। যেসব আসনে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান কম, সেসব জায়গায় প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা, স্থানীয় অর্থনীতি, অভিবাসন, মূল্যস্ফীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইগুলোতে সরাসরি প্রচার করতে প্রস্তুত। আলাস্কা ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট প্রতিযোগিতাও তার নজরে রয়েছে। অর্থাৎ হোয়াইট হাউস থেকে শুধু নীতিগত সমর্থন নয়, নির্বাচনী মাঠেও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। 


রিপাবলিকানদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা। কোনো কোনো এলাকায় ট্রাম্পের সমর্থন প্রার্থীকে দলীয় ভোটারদের মধ্যে শক্তিশালী করতে পারে। আবার প্রতিদ্বন্দ্বী আসনে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণাও আরও তীব্র হতে পারে।


ট্রাম্প তার বক্তব্যে নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, ওষুধের দাম কমানো এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করেছেন। তবে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বক্তব্যে ট্রাম্প কিছু পরিসংখ্যান অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাই তার রাজনৈতিক দাবিগুলোকে সরাসরি সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। 


মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলকে আরও সংগঠিত করার চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্পের এই সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে দলটি নিজেদের নীতি এবং ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সাফল্য ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে চাইছে।


অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা অর্থনীতি, যুদ্ধ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে সামনে রেখে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পেতে পারে। ফলে আগামী নির্বাচনে শুধু প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সামগ্রিক কর্মক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।


রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ট্রাম্পের সক্রিয়তার পাশাপাশি সরকারের অর্থায়ন এবং রিপাবলিকান নেতৃত্বের নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। 


ট্রাম্পের প্রায় ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রচারে নামার ঘোষণা দেখাচ্ছে যে তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। রিপাবলিকানদের জন্য এই নির্বাচন কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখার বড় পরীক্ষা হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর