রাশিয়ার হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ, আবাসিক ভবনে আগুনে নিহত একজন আহত অনেকে

রাশিয়ার নতুন হামলায় কিয়েভে প্রাণহানি, আবাসিক ভবনে আগুন ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে ইউক্রেনজুড়ে আবারও বাড়ছে যুদ্ধের ভয়াবহতা।

রাশিয়ার হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ, আবাসিক ভবনে আগুনে নিহত একজন আহত অনেকে

রাশিয়ার হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ, আবাসিক ভবনে আগুনে নিহত একজন আহত অনেকে


রয়টার্সের ৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত হয়েছেন। একটি আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেখানে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য জানিয়েছেন। 


রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার আলোচনা চললেও মাটিতে সংঘাত এখনো থামেনি। বৃহস্পতিবার কিয়েভে নতুন রুশ হামলা সেই বাস্তবতাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। 


রাজধানী কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরেই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অন্যতম লক্ষ্য। শহরটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি আবাসিক এলাকাও বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ হামলার পর উদ্ধারকারী ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে কাজ শুরু করেন।


এই হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে তুলনামূলক আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। পুতিন বলেছেন, যুদ্ধের সমাধানের সুযোগ রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনকেই সরাসরি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। 


ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন গতি আসার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কিয়েভে হামলার ঘটনা দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সামরিক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।


ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন গতি দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্ভাব্য বৈঠকের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। 


তবে শান্তি আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা। একদিকে রাশিয়া নিজেদের সামরিক লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি, অন্যদিকে ইউক্রেনও ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


কিয়েভে নতুন হামলা সাধারণ মানুষের জন্যও নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। আবাসিক ভবনে হামলা হলে শুধু প্রাণহানি নয়, বহু পরিবার সাময়িকভাবে ঘরবাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে দুই পক্ষের দূরপাল্লার হামলা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।


এদিকে যুদ্ধের প্রভাব ইউক্রেনের বাইরেও পড়ছে। কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং পরিবহনসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আশাবাদের খবরের পর শিকাগোর গমের বাজারেও মূল্য কমার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 


বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই শান্তির সম্ভাবনার খবরকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং একই সময়ে দুটি বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে—একদিকে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক হামলা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর