ডাকযোগে ভোট সীমিতের ট্রাম্পের উদ্যোগে আবার আদালতের দ্বারস্থ প্রশাসন
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম বদলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা আবারও আদালতের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
ডাকযোগে ভোট সীমিতের ট্রাম্পের উদ্যোগে আবার আদালতের দ্বারস্থ প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন করতে চাইছে, যার মাধ্যমে ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। প্রশাসনের যুক্তি, নির্বাচন ব্যবস্থায় অভিন্নতা এবং ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু অঙ্গরাজ্যগুলো বলছে, ফেডারেল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এভাবে হস্তক্ষেপ করা সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জন্য আংশিকভাবে অনুকূল সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। আদালত একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং বলে, মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি দাবি এখনো পরিপক্ব হয়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে ডাকভোট নিয়ে পুরো আইনি বিতর্ক শেষ হয়ে গেছে। বরং বিভিন্ন আদালতে বিষয়টি নিয়ে আরও মামলা চলতে পারে।
নতুন নিয়মে ডাকযোগে ভোটপত্রের খাম, বারকোড এবং ভোটারদের তালিকা নিয়ে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডাক বিভাগ অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছ থেকে ভোটপত্র প্রাপকদের তালিকা পেতে পারে এবং খামের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য যাচাই করতে পারে। তবে ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য কি না, সেটি যাচাই করার মূল দায়িত্ব ডাক বিভাগের নয়।
বিতর্কের মূল জায়গা হচ্ছে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর দায়িত্ব। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে ভোটের নিয়ম নির্ধারণ করা যায় কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টির রাজনৈতিক গুরুত্বও অনেক। রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ডেমোক্র্যাটরা পাল্টা বলছে, বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করা হলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এখন অঙ্গরাজ্যগুলোকে দ্রুত নিজেদের নির্বাচনী ব্যবস্থা নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হতে পারে। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের সময়সীমার পর ভোটপত্র পৌঁছালেও নির্দিষ্ট শর্তে তা গণনা করা হয়, সেখানে নতুন ফেডারেল বিধির সঙ্গে স্থানীয় আইনের সংঘাত হতে পারে।
এই কারণেই ডাকভোট নিয়ে বর্তমান বিতর্ক শুধু নির্বাচনপ্রযুক্তি বা ডাক বিভাগের বিষয় নয়। এটি ফেডারেল বনাম অঙ্গরাজ্য ক্ষমতা, ভোটারের অধিকার এবং নির্বাচনের প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।