মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি জেনেও ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়েও দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, ডিসেম্বরে ফেরার পরিকল্পনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোচনা।
মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি জেনেও ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তার। তবে তিনি এখনই দেশে ফিরছেন এমন কোনো তথ্য নেই এটি তার ঘোষিত পরিকল্পনা।
২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য প্রিন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরতে চান। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও প্রবেশের পথ উপযুক্ত সময়ে জানানো হবে।
এর আগে জুলাই মাসেও রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আগস্টেও শেখ হাসিনা তার দেশে ফেরার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। রয়টার্স জানায়, দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার অভিপ্রায় নিশ্চিত করেন। একই বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানান।
শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত তার বর্তমান আইনি অবস্থানের কারণে। তিনি বাংলাদেশে অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মুখোমুখি হয়েছেন। শেখ হাসিনা অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং ভারত বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করছে। ফলে শেখ হাসিনার ঘোষিত প্রত্যাবর্তন বাস্তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
শেখ হাসিনা তার সর্বশেষ বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের মতো বড় একটি রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিনি দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন। অর্থাৎ তার ঘোষণাটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এর সঙ্গে সম্ভাব্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বিষয়টিও জড়িত।