রায়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার বিচারক, শেষবার চেষ্টা
তিন সন্তান হত্যার মামলায় দ্বিতীয়বারও রায়ে পৌঁছাতে পারেনি বিচারকমণ্ডলী, শেষবারের মতো আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক
রায়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার বিচারক, শেষবার চেষ্টা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে তিন সন্তান হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির চলমান মামলায় আবারও রায়ে পৌঁছাতে পারেনি বিচারকমণ্ডলী। টানা পাঁচ দিন আলোচনা শেষে বুধবার বিচারকের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো জানানো হয়, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
এরপর বিচারক উইলিয়াম সুলিভান বিচারকদের আরও একবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন। তিনি বিচারকদের পরস্পরের মতামত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে এবং প্রয়োজন হলে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বলেন। তবে শুধু ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য নিজেদের দৃঢ় বিশ্বাস ত্যাগ না করার কথাও স্পষ্ট করেন।
লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাঁর তিন সন্তান—পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মামলার মূল বিতর্ক শুধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে নয়; ঘটনার সময় ক্ল্যান্সি আইনগতভাবে নিজের কাজের জন্য কতটা দায়ী ছিলেন, সেটিই বিচারকদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, সন্তানদের মৃত্যুর সময় ক্ল্যান্সি প্রসব-পরবর্তী গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থার কারণে নিজের কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি ও পরিণতি বোঝার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারি কৌঁসুলিরা দাবি করছেন, তিনি নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং পরিকল্পিতভাবেই সন্তানদের হত্যা করেছিলেন।
মামলাটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ক্ল্যান্সিকে হত্যার জন্য অপরাধী হিসেবে দায়ী করা হবে, নাকি তাঁর মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিচারকের সর্বশেষ নির্দেশকে এই অচলাবস্থা কাটানোর শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচারকমণ্ডলী আবারও একমত হতে ব্যর্থ হলে মামলাটি অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে বিচারককে বিচারকার্য বাতিল ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে। এরপর নতুন করে বিচার শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিচারকমণ্ডলী বৃহস্পতিবার আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এখন সবার নজর তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।