দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নিখোঁজ পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার বাবা-মা

নিখোঁজের পর জলাশয় থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নজরদারি যন্ত্র না পরানো ও অবহেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা-মা

দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নিখোঁজ পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার বাবা-মা

দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নিখোঁজ পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার বাবা-মা


যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে ছুটিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ বছর বয়সী এক স্বল্পভাষী ও স্বয়ংসম্পূর্ণতায় বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন শিশুর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির নাম সেলর হেইস। গত রোববার পরিবারের সঙ্গে পাউলিস দ্বীপ এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকার সময় সে নিখোঁজ হয়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির একা দূরে চলে যাওয়ার পূর্ব ইতিহাস ছিল এবং পানির প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণও ছিল। 


শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উদ্ধারকারী দল, ডুবুরি, প্রশিক্ষিত কুকুর, আকাশপথের অনুসন্ধানকারী দল এবং স্থানীয় শত শত মানুষ এতে অংশ নেন। স্থল, আকাশ ও জলপথ—তিন দিকেই চলে তল্লাশি। পরদিন সকালে হ্যাগলি ল্যান্ডিংয়ের কাছের জলাশয় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 


ঘটনার পর তদন্তে শিশুটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। সেলর ২০২৪ সাল থেকে এমন একটি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় ছিল, যার মাধ্যমে একা কোথাও চলে গেলে তাকে শনাক্ত করতে সহায়তা করা যায়। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার সময় তার শরীরে সেই যন্ত্রটি ছিল না। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পরিবার ভার্জিনিয়া থেকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় যাওয়ার আগেই যন্ত্রটি খুলে রাখা হয়েছিল এবং পরে সেটি ভার্জিনিয়ায় পরিবারের গাড়ির ভেতরে পাওয়া যায়। 


তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটির বাবা-মা জানতেন যে তার শরীরে নজরদারি যন্ত্রটি নেই। এরপরও অনুসন্ধানের সময় তারা ওই যন্ত্রের মাধ্যমে শিশুটিকে খোঁজার বিষয়টি সামনে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তদন্তকারীদের দাবি, অনুসন্ধানকারীদের কাছের জলাশয়ের পরিবর্তে অন্যদিকে খোঁজ করতে বলা হয়েছিল। 


ঘটনার পর শিশুটির বাবা ৭০ বছর বয়সী জন হার্ব হেইস তৃতীয় এবং মা ৩১ বছর বয়সী জিওর্ডিন নিকোল হেইসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিশুকে অযৌক্তিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দক্ষিণ ক্যারোলিনার বাইরে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাদের দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। 


তবে গ্রেপ্তার ও অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই আদালতে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফলের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ ও ধরন নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর