ভুল বাড়িতে ঢোকার পর কলেজ শিক্ষার্থী নিহত, পেনসিলভানিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

বন্ধুর বাড়ি ভেবে ভুল জায়গায় পৌঁছানোর পর নিরস্ত্র কলেজ শিক্ষার্থী গুলিতে নিহত, পেনসিলভানিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুল বাড়িতে ঢোকার পর কলেজ শিক্ষার্থী নিহত, পেনসিলভানিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

ভুল বাড়িতে ঢোকার পর কলেজ শিক্ষার্থী নিহত, পেনসিলভানিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা


পেনসিলভানিয়ায় এক কলেজ শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ২২ বছর বয়সী গ্লেনউড আর্ল পিশার চতুর্থ।


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে যখন পিশার রাতে ভুল বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সেখানে নিজের বন্ধুদের খুঁজছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সময় পুলিশ কর্মকর্তা শন ফ্যারেল সেখানে উপস্থিত হন। বডি-ক্যামেরা ফুটেজে পিশারকে নিরস্ত্র অবস্থায় দেখা যায় এবং তার হাত ওপরে ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন।


পুলিশের গুলিতে পিশার গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। ঘটনাটি তদন্তের পর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।


এই ঘটনায় পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে থাকা পরিস্থিতি, পিশারের আচরণ এবং পুলিশের কাছে থাকা বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।


এপি জানিয়েছে, বডি-ক্যামেরা ফুটেজে পিশারকে অস্ত্রহীন অবস্থায় দেখা যায়। তদন্তকারীরা আরও দেখছেন, পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করার আগে কম প্রাণঘাতী কোনো ব্যবস্থা নিতে পারতেন কি না।

ঘটনার পর পিশারের পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত ভুল বাড়িতে গিয়ে ভেবেছিলেন সেটি তার বন্ধুর বাড়ি।


এই ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি জবাবদিহি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। পুলিশের দায়িত্ব হলো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা, কিন্তু একই সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতাও তদন্তে বিবেচনা করা হয়।


অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা পরে নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার জামিন ৭৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।


এপি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রাণঘাতী পুলিশি গুলির ঘটনায় শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব মামলায় অভিযোগ প্রমাণ ও দণ্ডের হার তুলনামূলকভাবে কম।


পেনসিলভানিয়ার এই ঘটনাটি তাই শুধু একটি স্থানীয় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নয়; এটি পুলিশ কী পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করতে পারে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এনেছে।


তবে মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত বলা যাবে না। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ, বডি-ক্যামেরা ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।


এই ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশের প্রশিক্ষণ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং কম প্রাণঘাতী ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয় নিয়েও আলোচনা বাড়তে পারে।


নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে কীভাবে প্রমাণিত হয়, সেটিই এখন মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর