শাটডাউন এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলো নতুন অস্থায়ী অর্থায়ন বিল

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সরকার বন্ধের ঝুঁকি ঠেকাতে প্রতিনিধি পরিষদ ৩৭০–৪৮ ভোটে অস্থায়ী অর্থায়ন বিল অনুমোদন করেছে।

শাটডাউন এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলো নতুন অস্থায়ী অর্থায়ন বিল

শাটডাউন এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলো নতুন অস্থায়ী অর্থায়ন বিল


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারে আবারও শাটডাউনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ। ১ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদ বিপুল ভোটে একটি অস্থায়ী অর্থায়ন বিল অনুমোদন করেছে। বিলটি ৩৭০–৪৮ ভোটে পাস হয়।


এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো ১ অক্টোবর নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর যেন ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন বন্ধ না হয়ে যায়। নতুন অস্থায়ী ব্যবস্থা অনুযায়ী, ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান অর্থায়নের কাঠামোর অধীনে চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এখনো ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রয়োজনীয় ১২টি পূর্ণাঙ্গ অর্থ বরাদ্দ বিল শেষ করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন অর্থায়ন আইন পাস না হলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।


এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদের মঙ্গলবারের ভোটকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কোনো নতুন সরকারি শাটডাউন হলে সেটি উভয় দলের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।


অস্থায়ী অর্থায়ন ব্যবস্থা মূলত বর্তমান সরকারি ব্যয়ের কাঠামোকে আরও কয়েক সপ্তাহ চালু রাখবে। এতে কংগ্রেসের সদস্যরা নির্বাচনের আগে সরাসরি শাটডাউনের চাপ ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে আলোচনা করার অতিরিক্ত সময় পাবেন।


প্রতিনিধি পরিষদের এই সিদ্ধান্তের আগে সিনেটও বিলটি অনুমোদন করেছিল। ফলে এখন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর এটি কার্যকর হওয়ার কথা।


গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র হয়েছে। সরকারি ব্যয়, সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা এবং সামাজিক কর্মসূচির অর্থায়ন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।


নতুন অস্থায়ী বিল এসব মৌলিক মতপার্থক্যের সমাধান করছে না। বরং এটি মূলত সময় কিনে দিচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কংগ্রেসকে আবারও পূর্ণ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কঠিন আলোচনায় বসতে হবে।এই বিলের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সুবিধা হলো সরকারি কর্মচারী, সামরিক সদস্য এবং বিভিন্ন ফেডারেল সেবার ওপর হঠাৎ অর্থ সংকটের ঝুঁকি কমে যাওয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।


ফলে শুধু শাটডাউন ঠেকানো নয়, দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি কমানোও কংগ্রেসের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে যাচ্ছে। বাজেটের মতো ইস্যু নির্বাচনী প্রচারণায়ও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


অতএব, ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার সচল রাখার এই ব্যবস্থা আপাতত শাটডাউনের তাৎক্ষণিক আশঙ্কা কমালেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ডিসেম্বর ঘনিয়ে এলে একই ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা আবারও তৈরি হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর