খাবারের খোঁজে মানুষের ঘর ও দোকানে ঢুকছে ভালুক, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে খাবারের সন্ধানে ভালুক মানুষের ঘর ও দোকানে ঢুকছে, কলোরাডোতে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক দেখা গেছে।

খাবারের খোঁজে মানুষের ঘর ও দোকানে ঢুকছে ভালুক, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে উদ্বেগ

খাবারের খোঁজে মানুষের ঘর ও দোকানে ঢুকছে ভালুক, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে উদ্বেগ


যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ভালুকের মানুষের বসতি, বাড়ি ও দোকানে ঢোকার ঘটনা বেড়েছে। খাবারের সন্ধানে প্রাণীগুলো মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলোরাডোতে ২০২৬ সালে ভালুক দেখার ঘটনা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের পূর্ণ বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ভালুক সাধারণত মানুষের বসতি এড়িয়ে চলতে পারে। কিন্তু খাবারের সহজ উৎস পেলে তাদের আচরণ বদলে যেতে পারে।বাড়ির বাইরে রাখা আবর্জনা, পোষা প্রাণীর খাবার, ফল, মাংস বা অন্য খাবারের গন্ধ ভালুককে মানুষের এলাকায় টেনে আনতে পারে। এই কারণেই বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের খাবারের উৎস নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন।

ভালুক দেখতে আকর্ষণীয় হলেও তারা বন্য প্রাণী। খুব কাছাকাছি গেলে মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে মা ভালুকের সঙ্গে শাবক থাকলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বাড়িতে ভালুক ঢুকে পড়লে তাকে নিজের হাতে তাড়ানোর চেষ্টা করা বিপজ্জনক। সাধারণত স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষকে জানানো নিরাপদ।

এই সমস্যার সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশেরও সম্পর্ক রয়েছে। খাবারের প্রাকৃতিক উৎস কমে গেলে বা কোনো এলাকায় খাবারের সহজলভ্যতা পরিবর্তিত হলে ভালুক মানুষের এলাকায় বেশি আসতে পারে।

শহর ও বনাঞ্চলের সীমা কাছাকাছি হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে।

বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাবার ও আবর্জনা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা।গ্যারেজ বা বাড়ির বাইরে আবর্জনার পাত্র থাকলে তা ভালুক সহজেই খুলতে পারে। তাই অনেক এলাকায় ভালুক-প্রতিরোধী আবর্জনার পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ধরনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দ্রুত ভাইরাল হয়। বাড়ির দরজা খুলে ভালুক ঢুকে পড়া, গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বা দোকানের ভেতর খাবার খোঁজার ভিডিও মানুষকে বিস্মিত করে।

কিন্তু ভাইরাল ভিডিও দেখে ভালুককে পোষা প্রাণীর মতো কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষের নিরাপত্তা—দুই দিকের ভারসাম্য রক্ষা করাই মূল বিষয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর