আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভিসা নিয়ম, সেপ্টেম্বরে বড় পরিবর্তন
নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ নির্দিষ্ট হবে, বাড়তি সময় প্রয়োজন হলে ফেডারেল অনুমোদন লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভিসা নিয়ম, সেপ্টেম্বরে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়মের অধীনে এফ ও জে ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদন আগের মতো অনির্দিষ্ট শিক্ষাকালভিত্তিক না থেকে নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়ম ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। নতুনভাবে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।
এতদিন অধিকাংশ এফ-১ শিক্ষার্থীকে “ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস” বা ডিএস ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হতো। অর্থাৎ শিক্ষার্থী যতদিন বৈধভাবে তার প্রোগ্রামে থাকতেন এবং ভিসা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতেন, ততদিন থাকার সুযোগ থাকত।
নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের সীমা থাকবে। ফলে কোনো শিক্ষার্থীর কোর্স দীর্ঘ হলে, গবেষণা বাড়লে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিগ্রি শেষ না হলে অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিবর্তন বিশেষ করে পিএইচডি, গবেষক এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভারত, চীন, বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে যান।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থায় নয়, অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখেন। তারা টিউশন ফি, বাসস্থান, খাবার, পরিবহন এবং অন্যান্য খাতে অর্থ ব্যয় করেন।
নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন নিয়ম শুধু সময়ের মেয়াদ নয়, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবর্তনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিষয় বা প্রোগ্রাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও অধিকার সংগঠন নতুন ভিসা নিয়ম বাতিলের দাবিতে মামলা করেছে।
সমালোচকদের বক্তব্য হলো, নতুন নিয়ম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়াবে। একজন শিক্ষার্থী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিগ্রি শেষ করতে না পারেন, তাহলে তাকে অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের দৃষ্টিতে, নির্দিষ্ট সময়ের সীমা অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের ভিসা, আই-৯৪, সেভিস রেকর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের নির্দেশনা নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ পোস্ট দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। নতুন নিয়মের প্রকৃত প্রয়োগ, কোন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হবে এবং পুরোনো শিক্ষার্থীদের জন্য কী বিধান থাকবে—এসব বিষয় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করা প্রয়োজন।