সরকার বন্ধ ঠেকাতে কংগ্রেসে জরুরি তহবিল বিল নিয়ে তৎপরতা
সরকারি কার্যক্রম বন্ধ ঠেকাতে হাউসে স্বল্পমেয়াদি তহবিল বিল, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ।
সরকার বন্ধ ঠেকাতে কংগ্রেসে জরুরি তহবিল বিল নিয়ে তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারে সম্ভাব্য শাটডাউন ঠেকাতে কংগ্রেসে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন বিল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এমন একটি বিলের ওপর ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের ১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, সরকারের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রস্তাবিত স্বল্পমেয়াদি বিলটি ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সরকারি কার্যক্রম চালু রাখার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
তবে বিলটি নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। সিনেটে আলোচনার সময় প্রস্তাবটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনের রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তদের ফেডারেল অনুদান বণ্টনের ওপর বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিলম্বিত করার বিষয় রয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অর্থ ব্যবহারের বিষয়েও কিছু বিধান যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, নেশাজাতীয় হেম্প বা টিএইচসি পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত ফেডারেল নিষেধাজ্ঞা এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার বিধান নিয়ে রিপাবলিকানদের একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবছর শুরু হবে ১ অক্টোবর। তার আগে কংগ্রেস যদি প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সরকারের কিছু অংশের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে লাখ লাখ সরকারি কর্মচারী বেতন ছাড়া কাজ করেছেন বা সাময়িক ছুটিতে গেছেন।
এবারের পরিস্থিতি আরও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ফলে সরকার চালু রাখা নিয়ে যেকোনো অচলাবস্থা নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাউসে বিলটি দ্রুত পাস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হলে দুই দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
এর আগে আগস্টে সিনেট একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পরিকল্পনা পাস করেছিল, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার চালানোর লক্ষ্য রাখে। এখন হাউস ও সিনেটের অবস্থান সমন্বয় করে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য।
সরকারি শাটডাউন হলে বিমানবন্দর নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জাতীয় উদ্যান, বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা এবং সরকারি কর্মীদের বেতনসহ নানা ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।
তাই কংগ্রেসে এখন মূল প্রশ্ন হলো—দুই দল কি রাজনৈতিক মতপার্থক্য পাশে রেখে সময়মতো অর্থায়ন বিল পাস করতে পারবে? মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।