গাজার ভয়াবহ সংকটে আবর্জনা কুড়িয়ে রান্না, অনাহারে দিন কাটছে লাখো মানুষের
গাজায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে খাবারের পাশাপাশি জ্বালানির সংকটও তীব্র, আবর্জনা কুড়িয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে অসংখ্য বাস্তুচ্যুত পরিবার।
গাজার ভয়াবহ সংকটে আবর্জনা কুড়িয়ে রান্না, অনাহারে দিন কাটছে লাখো মানুষের
গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনির প্রতিদিনের জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তা, খাদ্যসংকট ও জ্বালানির অভাবে। রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে আবর্জনার স্তূপে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। কেউ সেখানে প্লাস্টিক ও দাহ্য বর্জ্য কুড়িয়ে আনছেন, আবার কেউ দীর্ঘ অপেক্ষায় ভিড় করছেন দাতব্য রান্নাঘরের সামনে।
কাহলুত পরিবারের ১২ বছর বয়সী ছেলে ওমরকে প্রতিদিন কাছের একটি আবর্জনার স্তূপে যেতে হয়। পরিবারের রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায় এমন প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ সংগ্রহ করাই তার দায়িত্ব। খালি হাতে আবর্জনা খুঁড়ে একটি পুরোনো বস্তা ভরে সে সেগুলো বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর সেই জ্বালানি দিয়েই কোনোভাবে পরিবারের খাবার রান্না করা হয়।
ওমরদের পরিবারে মোট আটজন সদস্য। তারা যে তাঁবুতে বসবাস করছে, সেটি আবর্জনার স্তূপের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে ইঁদুরের উৎপাতও বেড়েছে। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে গাজার বহু মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত শিবির কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অনেকেই বলছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও তাদের দৈনন্দিন জীবনে তার সুফল খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ওমরের বাবা আদম বলেন, যুদ্ধবিরতির কথা শুধু সংবাদমাধ্যমেই শোনা যায়, বাস্তবে তাদের জীবন এখনো একই রকম দুর্বিষহ। পরিবারের খাবারের বড় অংশ আসে মানবিক সহায়তার প্যাকেট ও দাতব্য রান্নাঘর থেকে।
তবে এসব রান্নাঘরের খাবারও অনেক পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। পরিবারপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার দেওয়া হয়, যার মধ্যে অনেক সময় ভাতের সঙ্গে মাত্র এক টুকরো মাছ থাকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করতে আসা বহু মানুষকে শেষ পর্যন্ত খালি হাঁড়ি নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
ফলে খাদ্য সহায়তা পৌঁছালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ করছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। তাদের ভাষ্য, শুধু খাবার নয়, রান্নার জ্বালানি, নিরাপদ আশ্রয় এবং দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীরও তীব্র সংকট রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার দাবি করে আসছে, গাজায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্য প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু গাজার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পরিবারগুলোর বক্তব্য সেই দাবির সঙ্গে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে।
গাজার বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকা। যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর কাছে প্রতিটি দিন এখনো টিকে থাকার সংগ্রাম। আবর্জনা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা শিশু ওমরের মতো অসংখ্য মানুষকে প্রতিদিন খাবার রান্না এবং পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।