জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার জাতিসংঘে দেবেন ভাষণ।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে  সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে যোগ দিবেন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তাঁর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেওয়ার সুযোগ।

সাম্প্রতিক সরকারি সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে পারেন। সফরটি প্রায় নয় দিনের হতে পারে। তবে চূড়ান্ত কর্মসূচি ও সফরের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আর উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত; ২৮ সেপ্টেম্বরও সাধারণ বিতর্কের কার্যক্রম রয়েছে।

এই অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকুরিসকে পরাজিত করেন। জাতিসংঘও তাঁর নির্বাচনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন—যা দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের সম্ভাব্য সময় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী বক্তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও নির্দিষ্ট সময় আলাদাভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে সম্ভাব্য কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করাই যুক্তিসঙ্গত।

সফরকালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে কোন কোন নেতার সঙ্গে বৈঠক হবে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্য একটি শহরেও যাওয়ার পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশি, উদ্যোক্তা, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আপনার দেওয়া খবরে উল্লেখ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কর্মসূচি হিসেবে পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন—কিন্তু সেটিকে ২০২৬ সালের প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সংবর্ধনার বিষয়টি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না লিখে ‘অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’ বা ‘এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি’এভাবে উল্লেখ করা বেশি নির্ভুল হবে।

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ—এসব তথ্য বর্তমান প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে সফরের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি, নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনায় অংশগ্রহণের বিষয়গুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ না করাই ফ্যাক্টচেকের দিক থেকে নিরাপদ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর