ইরানি পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে, বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট
তেহরানের মুদি দোকানগুলোতে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও বহু ইরানি পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বেকারত্ব দ্রুত বাড়ছে এবং যারা চাকরি করছেন, তাদের অনেকেই আগের তুলনায় বেশি সময় কাজ করেও এমন অর্থ পাচ্ছেন, যার মূল্য এক বছর আগের প্রায় অর্ধেক। ফলে খাদ্য, ওষুধসহ প্রায় সবকিছুই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একমাত্র ব্যাপক ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোল তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী রয়েছে
ইরানি পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে, বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট
তেহরানের মুদি দোকানগুলোতে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও বহু ইরানি পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বেকারত্ব দ্রুত বাড়ছে এবং যারা চাকরি করছেন, তাদের অনেকেই আগের তুলনায় বেশি সময় কাজ করেও এমন অর্থ পাচ্ছেন, যার মূল্য এক বছর আগের প্রায় অর্ধেক। ফলে খাদ্য, ওষুধসহ প্রায় সবকিছুই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একমাত্র ব্যাপক ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোল তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী রয়েছে।
৫২ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক ও দুই সন্তানের বাবা আহমাদ কারিমি বলেন, “আমরা অনেক কিছুই প্রায় ছেড়ে দিয়েছি।” সংসার চালাতে তাকে প্রতিদিন ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে। তিনি জানান, তারা ফল ও প্রোটিনজাত খাবার কেনা কমিয়ে দিয়েছেন, বিনোদন পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন এবং সপ্তাহান্তেও কাজ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর ইরানের অর্থনীতি কঠিন চাপের মুখে পড়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য—তেল—আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
অর্থনৈতিক চাপের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
ইরানের অর্থনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তেল রপ্তানিতে বাধা দেশটির বৈদেশিক আয়েও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এর ফলে সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষ—সব পক্ষই ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
এদিকে বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও দুর্বল হচ্ছে। অনেক কর্মজীবী মানুষ অতিরিক্ত সময় কাজ করেও আগের মতো জীবনযাত্রা বজায় রাখতে পারছেন না।
এপি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট শুধু সরকারি হিসাব বা তেল রপ্তানির পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ওপর।