গাজায় চোরাচালান বাড়ায় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালগুলোও ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য চোরাকারবারিদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা, মধ্যস্বত্বভোগী ও অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অবৈধ বাণিজ্য থেকে কোটি কোটি ডলার লাভ করার অভিযোগ উঠেছে
গাজায় চোরাচালান বাড়ায় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালগুলোও ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য চোরাকারবারিদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা, মধ্যস্বত্বভোগী ও অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অবৈধ বাণিজ্য থেকে কোটি কোটি ডলার লাভ করার অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানে আদালতের নথি এবং ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সিগারেট ও তামাক প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে কর্মকর্তাদের ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এসব পণ্যই এখন চোরাকারবারিদের জন্য সবচেয়ে বেশি লাভজনক। পাশাপাশি আইফোন, সৌর প্যানেল, জ্বালানি ও অ্যানেসথেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যও অবৈধভাবে গাজায় প্রবেশ করছে।
ইসরায়েল কিছু পণ্যের প্রবেশের পরিমাণ সীমিত করেছে এবং কিছু পণ্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। এসবের মধ্যে অনেক পণ্যকে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ বা ডুয়াল-ইউজ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে কংক্রিট, যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও এক্স-রে মেশিন রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব সামগ্রী হামাস সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে।
এপি গাজার অবৈধ বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরতে ইসরায়েলি আদালতের নথি বিশ্লেষণ করেছে। পাশাপাশি পাঁচজন বড় চোরাচালানকারী ব্যবসায়ী, তিনজন পণ্য বিক্রেতা এবং দুইজন ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা বলেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এপি আরও চারজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। এছাড়া দুইজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা এবং এক ডজন ফিলিস্তিনি বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদ সংস্থাটি।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজায় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সীমিত সরবরাহ এবং চোরাচালানের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার, ব্যাটারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
এপি’র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গাজায় পণ্য প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ যত বাড়ছে, অবৈধ বাজারও তত বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ উচ্চমূল্যের চাপে পড়ছে, অন্যদিকে চোরাচালান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে।