ট্রাম্প বলছেন, ইরান প্রয়োজনীয় চুক্তিতে রাজি হবে না; ওমানকে বোমা হামলার হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, ইরান এমন কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না, যা তাঁর মতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন
ট্রাম্প বলছেন, ইরান প্রয়োজনীয় চুক্তিতে রাজি হবে না; ওমানকে বোমা হামলার হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, ইরান এমন কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না, যা তাঁর মতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “তারা এমন ধরনের চুক্তি করবে না, যা আমার কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়। আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না।”
ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “না।”
৬০ দিনের সময়সীমা শেষ
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক (MOU) হয়েছিল, তাতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান “তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে” বন্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে। ট্রাম্প ৭ জুলাই সেটিকে “শেষ” বলে ঘোষণা করেন এবং এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তিটি “স্থগিত” করা হয়েছে।
ওই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা করার কথা ছিল। পারস্পরিক সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও ছিল। সোমবার সেই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের “আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা তোলা উচিত।”
ওমানকে বোমা হামলার হুমকি
এরই মধ্যে ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হতো।
ওমান যদি এই আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে কী করবেন—ফক্স নিউজের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।”
পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকরা ওমানের ওপর তিনি ধৈর্য হারিয়েছেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “না। আমি মনে করি না তারা খুব ভালো আচরণ করেছে, তবে আমরা তাদের বিষয়টি খুব সহজেই সামলাতে পারব—যেভাবে আমরা অন্য বিষয়গুলো সামলাই।”
হরমুজ সংকট ও জ্বালানি মূল্য
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ ইতোমধ্যেই জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে।
বিশেষ করে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে।
তবে ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন তাঁর ইরান-সংক্রান্ত কৌশলকে প্রভাবিত করছে না।
তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, “মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে আমার চিন্তাভাবনার কোনো সম্পর্ক নেই।”
এর আগে সোমবার নিজের Truth Social প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প আবারও বলেন, তাঁর “এক নম্বর লক্ষ্য” হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাই ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ঘোষিত কারণ। কিন্তু আলোচনার অচলাবস্থা, হরমুজ প্রণালির সংকট এবং ওমানকে দেওয়া সামরিক হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।