মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ট্রাম্পের সমর্থন, শাহবাজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
তিন দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা উদ্যোগে নতুন বার্তা ট্রাম্পের সমর্থনে আরও দৃঢ় হলো আঞ্চলিক সহযোগিতা।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ট্রাম্পের সমর্থন, শাহবাজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) শাহবাজ শরিফ বলেন, নিজেদের দেশ ও বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের ‘সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বের’ প্রশংসা করেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, তিন দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি একটি ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি নিয়মিত বৈঠক, সামরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ও চুক্তিতে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর যোগদানের সুযোগও রাখা হয়েছে; তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বিশেষ করে মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।
তবে তুরস্ক স্পষ্ট করেছে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। বরং এর মূল লক্ষ্য তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য হুমকির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণেও নতুন পরিবর্তন আসতে পারে।