ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ৫৩, উদ্ধারকাজে বাধা দিচ্ছে পরাঘাত ও ভূমিধস
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধস ও সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৫,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ৫৩, উদ্ধারকাজে বাধা দিচ্ছে পরাঘাত ও ভূমিধস
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধস ও সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৫,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পে ১৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের হাড় ভেঙে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শনিবারের এই ভূমিকম্পটি ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা BNPB জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সিক্কা অঞ্চলে ৩,৩০০-এর বেশি মানুষ নিজেদের উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন অথবা একটি ক্রীড়া স্টেডিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন।
ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী তাঁবুর নিচে কিছু বাসিন্দাকে আটকে থাকতে দেখা গেছে। আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালের বাইরে স্থাপিত অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ২৯ কোটি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যেখানে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
পরাঘাতের আতঙ্ক
ভূমিকম্পের পর মাউমেরে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ধসে পড়া ছাদ ও দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরাঘাতের আশঙ্কায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ভূমিকম্পের পর প্রায় ১,০০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কাছের একটি স্টেডিয়ামে শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। স্টেডিয়ামটি কর্তৃপক্ষ একটি নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
সূর্য ডোবার সময় সেখানে মানুষ গরম পানীয় পাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কয়েকজন মা তাঁবুর কাঠামোর সঙ্গে কাপড় ঝুলিয়ে শিশুদের জন্য অস্থায়ী দোলনা তৈরি করেন। অন্যদিকে শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে ফুটবল খেলছিল।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান মার্গারেথা মোভালদেস দা মাগা বাপা বলেন, এই ভূমিকম্প ১৯৯২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভব করি। কিন্তু এবারের ভূমিকম্প ১৯৯২ সালের সেই ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি আবার ফিরিয়ে এনেছে।”
এদিকে খাদ্য ও তাঁবুসহ ত্রাণসামগ্রী ট্রাকে করে তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা সুরিয়ামান জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মাঙ্গারাই, পূর্ব মাঙ্গারাই ও নাগেওকেও এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিধস ও একের পর এক পরাঘাত উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলছে।
সাড়ে ৩ হাজার সেনা-পুলিশ মোতায়েন
ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রিসভার সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৩,৫০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা Perusahaan Listrik Negara (PLN) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন মেরামতের কাজ এখনও চলছে।
পূর্ব নুসা তেংগারা প্রাদেশিক সরকার পুরো প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। BNPB জানিয়েছে, এর ফলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অর্থ বরাদ্দ করতে পারবে।
ভূতত্ত্ববিদ দ্বিকোরিতা কার্নাওয়াতি জানান, অঞ্চলটি ‘ফ্লোরেস ব্যাক-আর্ক থ্রাস্ট ফল্ট’-এর কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি পূর্ব-পশ্চিমমুখী একটি বড় থ্রাস্ট ফল্ট ব্যবস্থা।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, একই এলাকায় ১৯৯২ সালে ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল।
প্রতিবেদন: রয়টার্স