আফগানিস্তানে সাক্ষরতার হার মাত্র ৩৭ শতাংশ, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
আফগানিস্তানে সাক্ষরতার হার মাত্র ৩৭ শতাংশ, লাখ লাখ মেয়ে শিক্ষার বাইরে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা নিয়ে বাড়ছে গভীর উদ্বেগ।
আফগানিস্তানে সাক্ষরতার হার মাত্র ৩৭ শতাংশ, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
আফগানিস্তানে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ উপলভ্য তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার মাত্র প্রায় ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটির বড় একটি অংশ এখনো পড়তে ও লিখতে পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।
শিক্ষাব্যবস্থার এই দুর্বলতার পেছনে দীর্ঘদিনের সংঘাত, দারিদ্র্য, বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগের সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার ওপর কঠোর বিধিনিষেধকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে শিক্ষার মান নিয়েও গভীর সংকট রয়েছে। ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশ একটি সহজ লেখা পড়ে তার অর্থ বুঝতে পারে না। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৌলিক শিক্ষা অর্জন নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
২০২১ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে লাখ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর ফলে দেশটির নারী শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে, শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি বাড়ালেই এই সংকটের সমাধান হবে না। শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
আফগানিস্তানের সাক্ষরতার হার ৩৭ শতাংশের কাছাকাছি থাকা দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হলে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মশক্তির ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে।
শিক্ষা থেকে একটি বড় জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন দূরে থাকলে শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই আফগানিস্তানের শিক্ষা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।