চীন সফর শক্তিশালী করেছে সম্পর্ক, বাজেট জোগাবে অর্থনীতির গতি: আলতাফ হোসেন চৌধুরী
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কূটনৈতিক সাফল্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একই সূত্রে গেঁথে সংসদে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, আর প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর সেই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
চীন সফর শক্তিশালী করেছে সম্পর্ক, বাজেট জোগাবে অর্থনীতির গতি: আলতাফ হোসেন চৌধুরী
বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রূপরেখা প্রস্তাবিত বাজেট, প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক সাফল্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে
ঢাকা, ২৭ জুন: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার একটি সাহসী, বাস্তবমুখী এবং সময়োপযোগী বাজেট প্রণয়ন করেছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তা শুধু একটি বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনা নয়; বরং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের একটি সমন্বিত রূপরেখা।
তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়ন করেছে, যা দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। এজন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরের ভূয়সী প্রশংসা
বক্তৃতায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে চীন সফরকে তিনি “উচ্চ পর্যায়ের অত্যন্ত সফল সফর” আখ্যায়িত করে বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সংসদ এবং দেশের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান সংসদ
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্য বিগত সরকারের সময় বিভিন্নভাবে নির্যাতন, রাজনৈতিক মামলা, কারাবাস এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তারা জনগণের ভোটে সংসদে এসেছেন।
চার মাসেই সামাজিক নিরাপত্তায় দৃশ্যমান উদ্যোগ
সরকারের স্বল্প সময়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র চার মাসের মধ্যেই সরকার কাবিখা, কাবিটা, টিআর এবং ভিজিএফ কর্মসূচির বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার জন্য অনুদান, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, পাদ্রী ও ভান্তেদের ভাতা, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফসহ একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, এসব কর্মসূচি সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতির প্রতিফলন এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাজেটের লক্ষ্য অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত বাজেটেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে অগ্রাধিকারমূলক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা”।
সংসদে বাজেট নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সরকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান
সংসদে বাজেট আলোচনায় বিরোধী সদস্যরা মূল্যস্ফীতি, করের চাপ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকারি দলের সদস্যরা বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেন। আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যও সেই অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তার সমন্বয়
সংসদে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যে অর্থনীতি, কূটনীতি এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সরকারের চার মাসের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে সেই পুনর্গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর বক্তব্যে সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং সামাজিক সুরক্ষাকে একই কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে, যা বাজেট নিয়ে সরকারি অবস্থানকে সংসদে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করেছে।