ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অস্বীকৃতি: পারমাণবিক পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ভবিষ্যতের জন্য “অনির্দিষ্টকাল” (Infinity) আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শন মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করে বলেছে, তারা এমন কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অস্বীকৃতি: পারমাণবিক পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অস্বীকৃতি: পারমাণবিক পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ভবিষ্যতের জন্য “অনির্দিষ্টকাল” (Infinity) আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শন মেনে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করে বলেছে, তারা এমন কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসানে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি এবং তার অর্থ গ্রহণ করতে পারবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুতে ভবিষ্যৎ সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং ইরান পরিদর্শকদের ফেরত আসার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইরানের কর্মকর্তারা বলেন, আলোচনায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরুই হয়নি এবং IAEA-কে আমন্ত্রণ জানানোর প্রশ্নও ওঠেনি।

ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান “সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক পরিদর্শনে দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণভাবে সম্মত হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চুক্তির আওতায় মুক্ত হওয়া ইরানের অর্থ একটি এসক্রো অ্যাকাউন্টে রাখা হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য, ওষুধ, ভুট্টা, গম ও সয়াবিন কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে জেনেভায় ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মুক্ত হওয়া সম্পদের ব্যবহার কীভাবে হবে, সে সিদ্ধান্ত কেবল ইরানই নেবে। অন্য কোনো দেশের এ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি জানান, IAEA মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে কোনো বৈঠক হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনায় সংস্থাটির পরিদর্শনেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে দুটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। তবে পারমাণবিক ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে প্রাথমিক চুক্তির পাঁচটি ধাপ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।

এদিকে লেবানন ইস্যুতেও আলোচনা এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত কমানোর একটি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি এবং ইরানের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির মধ্যে এই স্পষ্ট পার্থক্য শান্তি আলোচনা ও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সমঝোতার পথকে এখনও অনিশ্চিত করে রেখেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর