ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে প্রথম আগ্রহের সূচনা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সে সময় তিনি প্রকাশ্যে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সমালোচনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা উচিত ছিল

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে প্রথম আগ্রহের সূচনা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সে সময় তিনি প্রকাশ্যে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সমালোচনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা উচিত ছিল।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পরে, ট্রাম্প নিজেই এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে ইরানের সঙ্গে তাঁর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশায় নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত জটিল সংঘাতে রূপ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন কূটনৈতিক অবস্থানে ফেলে।

ট্রাম্প অতীতে বারবার জিমি কার্টারকে দুর্বল নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনিও এমন এক বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছেন, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সমাধান রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাব্য মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্পগুলোকে সীমিত করে দিয়েছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে ইরানের শাসকগোষ্ঠী অভ্যন্তরীণভাবে নতুন বৈধতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। আগে যেসব অভ্যন্তরীণ সংকট ও গণবিক্ষোভ তাদের চাপে ফেলেছিল, বিদেশি হামলার পর জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MOU)-এ উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করার এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করেছে। বিশ্লেষকের মতে, এই ভাষা ইরানি নেতৃত্বের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই অবস্থান ইরানের প্রবাসী বিরোধী গোষ্ঠীর অনেককে হতাশ করেছে। তাদের অনেকে আশা করেছিলেন, ট্রাম্পের নীতির মাধ্যমে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সমর্থকেরা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধকে তাঁর পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন, অন্যদিকে কট্টরপন্থী রিপাবলিকানরা মনে করছেন তিনি ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের সুযোগ হারিয়েছেন।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে ট্রাম্পের এই নীতিকে ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী সমঝোতা হয় কি না তার ওপর।

সবশেষে লেখক যুক্তি দেন, ইরান এখন শুধু আঞ্চলিক শক্তিই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার অনেকাংশেই তেহরানের সঙ্গে এই সম্পর্কের সফলতা বা ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর