যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাইবার হামলা — ইরানি হ্যাকারদের সন্দেহ করছে মার্কিন কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনের জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনায় ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের সন্দেহ করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হ্যাকাররা অনিরাপদ Automatic Tank Gauge (ATG) সিস্টেমে প্রবেশ করে জ্বালানির ডিসপ্লে ডেটা পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাইবার হামলা — ইরানি হ্যাকারদের সন্দেহ করছে মার্কিন কর্মকর্তারা
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান-সমর্থিত সাইবার গ্রুপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্যাস স্টেশনের জ্বালানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক সাইবার অনুপ্রবেশ চালিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হ্যাকাররা এমন Automatic Tank Gauge (ATG) সিস্টেমকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, যেগুলো অনলাইনে উন্মুক্ত ছিল এবং পাসওয়ার্ড সুরক্ষা ছিল না।
সূত্রগুলোর মতে, হ্যাকাররা ট্যাংকের জ্বালানির প্রকৃত পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারেনি, তবে ডিসপ্লে রিডিং বা প্রদর্শিত তথ্য নিয়ে কারসাজি করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক ক্ষতি বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি, তবুও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এমন সিস্টেমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেলে গ্যাস লিক বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি আড়াল করা সম্ভব হতে পারে।
মার্কিন তদন্তকারীরা বলছেন, ইরানের অতীত সাইবার কর্মকাণ্ডের ধরন এই সন্দেহকে আরও জোরালো করছে। এর আগেও ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকার গ্রুপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ও জ্বালানি খাতের দুর্বল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC)-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে প্রো-ফিলিস্তিনি বার্তা প্রদর্শন করেছিল।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ATG সিস্টেমের দুর্বলতা নিয়ে অন্তত এক দশক ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Trend Micro পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ভুয়া ATG সিস্টেম অনলাইনে রাখলে দ্রুতই একটি প্রো-ইরান হ্যাকার গ্রুপ সেখানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।
২০২১ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নথিতে গ্যাস স্টেশন অবকাঠামোকে সম্ভাব্য সাইবার হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে সাইবার যুদ্ধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস স্থাপনা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Stryker-এর কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া FBI পরিচালক Kash Patel-এর ব্যক্তিগত ইমেইল ফাঁসের ঘটনাতেও ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকারদের নাম উঠে আসে। Handala নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ টেলিগ্রামে নিজেদের হামলার প্রচারণা চালিয়ে দাবি করে যে তারা FBI-এর “অভেদ্য” সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, যদিও পরে জানা যায় তারা মূলত পুরোনো Gmail অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও ইরান তথ্যযুদ্ধ ও সাইবার প্রভাব বিস্তার কার্যক্রম চালাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, তথ্য ফাঁস এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এখন সাইবার যুদ্ধের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।