যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক স্বাধীনতা ও ক্যাম্পাস প্রতিবাদ নিয়ে নতুন চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক স্বাধীনতা ও ক্যাম্পাস প্রতিবাদ নিয়ে ফেডারেল সরকারের নতুন চাপ বাড়ছে।

PostImage

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক স্বাধীনতা ও ক্যাম্পাস প্রতিবাদ নিয়ে নতুন চাপ


যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক স্বাধীনতা, ক্যাম্পাসে প্রতিবাদের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিমালা নিয়ে ফেডারেল সরকারের চাপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আগস্টের শুরুতে মার্কিন শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে একটি ‘ন্যাশনাল কল টু অ্যাকশন’ পাঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ একাধিক নীতিগত সংস্কারের বিষয়ে প্রকাশ্যে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগটি আগের ‘কমপ্যাক্ট ফর একাডেমিক এক্সেলেন্স ইন হায়ার এডুকেশন’ প্রস্তাবের পর নতুন কৌশল হিসেবে এসেছে। আগের প্রস্তাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি নীতি, ক্যাম্পাসের প্রতিবাদ, বৈচিত্র্য কর্মসূচি ও মতাদর্শগত ভারসাম্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের শর্ত ছিল। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং একাডেমিক স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

এদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী ক্যাম্পাস প্রতিবাদ মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়েও ফেডারেল তদন্ত জোরদার হয়েছে। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতি নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি সান হোসে স্টেট ও সান ফ্রান্সিসকো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য অভিযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—ফেডারেল সরকারের আইন ও নীতিমালা মেনে চলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অধিকার, প্রতিবাদের স্বাধীনতা এবং শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়।

উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, সরকারি অর্থায়ন বা অন্যান্য ফেডারেল সুবিধার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তকে যুক্ত করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগকে উচ্চশিক্ষায় সংস্কার, জবাবদিহি ও বৈষম্যবিরোধী নীতি জোরদারের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে একাডেমিক স্বাধীনতা, ক্যাম্পাস প্রতিবাদ এবং সরকারি নীতির সীমা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর