ইরানের প্রভাবশালী পরিবারের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে IRGC’র কোটি ডলার লেনদেন, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অভিযোগ

ইরানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার কৌশলে ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে—আর এই ব্যবস্থার কেন্দ্রেই রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় এক্সচেঞ্জ Nobitex। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে Reuters জানায়, এই প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার খাররাজি (Kharrazi) পরিবারের সদস্যরা

PostImage

ইরানের প্রভাবশালী পরিবারের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে IRGC’র কোটি ডলার লেনদেন, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অভিযোগ


ইরানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার কৌশলে ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে—আর এই ব্যবস্থার কেন্দ্রেই রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় এক্সচেঞ্জ Nobitex। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে Reuters জানায়, এই প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার খাররাজি (Kharrazi) পরিবারের সদস্যরা। 

ক্ষমতাধর পরিবারের প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ভাই—আলি ও মোহাম্মদ খাররাজি—গোপনে ভিন্ন পদবি ব্যবহার করে Nobitex প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের পরিবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে শুরু থেকেই এই এক্সচেঞ্জটি শুধু ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি আর্থিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

 IRGC ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর নেটওয়ার্ক

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই এক্সচেঞ্জটি ব্যবহার করছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC)। Reuters অনুসারে, Nobitex-এর মাধ্যমে দশ থেকে শত মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ক্রিপ্টো লেনদেন হয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নিষিদ্ধ সংস্থা ও ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির বিকেন্দ্রীভূত প্রকৃতির কারণে এসব লেনদেন ট্র্যাক করা কঠিন—যা IRGC-এর মতো সংস্থার জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটানোর কার্যকর উপায় হয়ে উঠেছে। 

 বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

Nobitex দাবি করে তাদের ব্যবহারকারী সংখ্যা ১ কোটির বেশি। এটি ইরানে এক ধরনের “প্যারালাল ফিনান্সিয়াল সিস্টেম” তৈরি করেছে, যেখানে সাধারণ নাগরিক যেমন লেনদেন করেন, তেমনি নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়।

এমনকি রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের লেনদেন গোপন রাখতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদ্ধতি ব্যবহার করে—যা আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে সাহায্য করে।

বৈশ্বিক উদ্বেগ ও নীতিগত প্রশ্ন

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও Nobitex এখনো সরাসরি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেনি, তবে এটি প্রমাণ করে—

ইরান ক্রিপ্টো ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অবরোধ ভাঙার নতুন পথ তৈরি করছে

রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি খাতের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে

বৈশ্বিক আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ফাঁক রয়ে গেছে

বিশ্লেষণাত্মক মূল্যায়ন

এই ঘটনাটি কেবল একটি কোম্পানির গল্প নয়—বরং এটি দেখায় কিভাবে প্রযুক্তি, রাজনীতি ও ভূরাজনীতি একসাথে মিলে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক যুদ্ধ তৈরি করছে। ক্রিপ্টো এখন শুধু বিনিয়োগ নয়, কৌশলগত অস্ত্র। রাষ্ট্র-সমর্থিত নেটওয়ার্ক ডিজিটাল অর্থনীতিকে ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা ক্রমশ অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

Reuters-এর এই অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, ইরানের মতো দেশগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ব্যবহার করে শুধু অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করছে না—বরং তা দিয়ে একটি বিকল্প বৈশ্বিক আর্থিক পথ তৈরি করছে, যেখানে IRGC-এর মতো শক্তিশালী সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

সূত্র: Reuters 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর