রোজায় কর্মজীবী মানুষের সুস্থতা: কী বলছে স্বাস্থ্য সংস্থা, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদেরা

পবিত্র Ramadan মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে রোজা রাখা কর্মজীবী মানুষের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদেরা বলছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে রোজা রেখে কর্মজীবন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

PostImage

রোজায় কর্মজীবী মানুষের সুস্থতা: কী বলছে স্বাস্থ্য সংস্থা, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদেরা


পবিত্র Ramadan মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে রোজা রাখা কর্মজীবী মানুষের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদেরা বলছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে রোজা রেখে কর্মজীবন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization (WHO) জানায়, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য রোজা সাধারণত নিরাপদ। তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখা উচিত।

বাংলাদেশের পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা বলছেন, কর্মজীবীদের জন্য সেহরি ও ইফতারে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরিতে জটিল শর্করা (ভাত, ওটস, লাল আটা রুটি), প্রোটিন (ডিম, মাছ, ডাল) এবং আঁশযুক্ত খাবার বেশি রাখা উচিত। এতে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় থাকে এবং ক্লান্তি কম হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পানিশূন্যতা। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টায় এটি বেশি দেখা যায়। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদেরা সাধারণত ৮–১০ গ্লাস পানি গ্রহণের পরামর্শ দেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত রোজা শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। এ বিষয়ে গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী New England Journal of Medicine-এও, যেখানে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা কর্মজীবীদের জন্য আরও কয়েকটি বাস্তব পরামর্শ দিয়েছেন:

সেহরি কখনো বাদ না দেওয়া

অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়ানো

ইফতারে ধীরে ধীরে খাবার শুরু করা

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

খুব ভারী শারীরিক কাজ থাকলে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়া

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি রোজার সময় মাথা ঘোরা, তীব্র দুর্বলতা, অস্বাভাবিক তৃষ্ণা বা অসুস্থতা দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে রোজা শুধু আধ্যাত্মিক উপকারই নয়, বরং শরীরের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—যা কর্মজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক।