ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ইরানে ফাঁসি চললে হবে ভয়াবহ পরিণতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বলেছেন যে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি চলতে থাকলে তেহরানকে ‘গুরুতর পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ইরানে ফাঁসি চললে হবে ভয়াবহ পরিণতি
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, নিহতদের মধ্যে ২,৪২৭ জন ছিলেন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, আর বাকিদের সরকার “সন্ত্রাসী” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এই সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে তার “গুরুতর পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
শুক্রবার ফক্স নিউজ ডিজিটাল-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন, এবং বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর যেসব বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল, তাদের শাস্তি কার্যকর করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এবং এই ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন।
এদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন খবর আসে যে, একজন ইরানি সেনাকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তবে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন যে, ইরানের নেতৃত্ব ৮০০-র বেশি নির্ধারিত ফাঁসি বাতিল করেছে, এবং তিনি এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান।
এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইরানের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ মোভাহেদি বলেন, “এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন কোনো সংখ্যা নেই, এবং বিচার বিভাগ এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।” ইরানের বিচার বিভাগের মুখপত্র মিজান নিউজ এজেন্সি ও পরে এপি নিউজ-এ প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ইরান কোনোভাবেই বিদেশি শক্তির নির্দেশে বিচারিক সিদ্ধান্ত নেয় না।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের অভিযোগের মধ্যে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।