এপস্টিন কাণ্ড: শুক্রবারের মধ্যে নথি প্রকাশের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এপস্টিন কাণ্ড: শুক্রবারের মধ্যে নথি প্রকাশের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
ওয়াশিংটন — যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে শুক্রবারের মধ্যে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকার ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ করতে হবে। এপস্টিন বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পরিচিত ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় এই নথিগুলো গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
এই নথিগুলো প্রকাশ পেলে প্রায় দুই দশক ধরে চলা এপস্টিন–সংক্রান্ত সরকারি তদন্ত, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং ফেডারেল হেফাজতে তার মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা জানতে চাইছেন—এপস্টিনের ধনী ও ক্ষমতাবান সহযোগীরা এসব অপরাধ সম্পর্কে জানতেন কি না বা এতে জড়িত ছিলেন কি না। একই সঙ্গে ২০০৮ সালে কেন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এপস্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যত বন্ধ করে একটি বিতর্কিত সমঝোতায় পৌঁছেছিল, সে প্রশ্নও বারবার উঠেছে।
রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প গত ১৯ নভেম্বর একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যেখানে বিচার বিভাগকে ৩০ দিনের মধ্যে এপস্টিন–সংক্রান্ত অধিকাংশ নথি ও যোগাযোগ প্রকাশ করতে বলা হয়। আইনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের পরিচয় বা চলমান তদন্ত রক্ষার জন্য সীমিত তথ্য গোপন রাখা যাবে, তবে “রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা, সুনামহানির আশঙ্কা বা বিব্রতকর তথ্য” দেখিয়ে কিছু লুকানো যাবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি জানান, ট্রাম্পের অনুরোধে তিনি এপস্টিনের রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে একটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কাউকেই এপস্টিনের ভুক্তভোগীরা যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেননি।
এপস্টিনের বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয় ২০০৫ সালে ফ্লোরিডায়। পরবর্তীতে তিনি ২০০৮ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে ফেডারেল মামলা এড়িয়ে যান। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে নতুন করে মানব পাচার–সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হলেও বিচার শুরুর আগেই তিনি কারাগারে মারা যান। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে দোষী সাব্যস্ত হন এবং বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
যদিও এপস্টিন–সংক্রান্ত বিপুল নথি ইতোমধ্যেই প্রকাশিত, তবুও নতুন ফাইল প্রকাশ নিয়ে জনস্বার্থ ও কৌতূহল এখনও তুঙ্গে—বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে।
(এপি)