ইউক্রেন সহায়তায় রুশ সম্পদ ব্যবহারে ইইউর কঠিন পরীক্ষা, আজ সিদ্ধান্তে নজর ইউরোপের

ইউক্রেনকে অর্থ সহায়তার জন্য জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ইইউ নেতারা।

PostImage

ইউক্রেন সহায়তায় রুশ সম্পদ ব্যবহারে ইইউর কঠিন পরীক্ষা, আজ সিদ্ধান্তে নজর ইউরোপের


ব্রাসেলস — ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবেন, ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেওয়া হবে কি না। ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টা টিকিয়ে রাখতে এই অর্থ সহায়তাকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশন প্রস্তাব দিয়েছে, বেলজিয়ামে অবস্থিত একটি ক্লিয়ারিং হাউসে রাখা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জব্দ করা সম্পদকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ইউক্রেনকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হোক। তবে বেলজিয়াম এই পরিকল্পনা নিয়ে আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইতালিসহ আরও কয়েকটি দেশও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে আসা ইইউ নেতারা বলেন, সমাধান বের করা এখন অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইউরোপকে “দুর্বল” বলার পর, ইইউ দেশগুলো নিজেদের ঐক্য ও দৃঢ়তা দেখাতেও আগ্রহী।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, “আজ টাকা না দিলে কাল রক্ত দিতে হবে—এটা শুধু ইউক্রেনের নয়, ইউরোপের বিষয়।” ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানান, আগামী দুই বছরের জন্য ইউক্রেনের অর্থায়ন নিয়ে সমঝোতা ছাড়া তিনি বৈঠক ছাড়বেন না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যা কিয়েভের কাছে পরিস্থিতির জরুরিতা স্পষ্ট করে।

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভার বলেন, আইনি ঝুঁকি ও তারল্য সংকট নিয়ে তার উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। এদিকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিকল্পনাকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়ে ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে মস্কোতে ২৩০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে।

ইইউ নেতাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় সহায়তা ছাড়া ইউক্রেন আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থ সংকটে পড়বে এবং যুদ্ধ হারাতে পারে—যা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠবে।

কূটনীতিকদের মতে, বাস্তবে রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করাই “একমাত্র কার্যকর পথ”, কারণ এতে ইউক্রেন বড় অঙ্কের অর্থ পাবে, আবার ইইউ দেশগুলোর জাতীয় ঋণও বাড়বে না। তবে এজন্য প্রথমে বেলজিয়ামকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, আইনি জটিলতায় পড়লে তাকে একা দায় নিতে হবে না।

(রয়টার্স) 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর