হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ঐতিহাসিক রায়—গণতন্ত্রপন্থী শিল্পপতি জিমি লাই দোষী সাব্যস্ত, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ।
চীন আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় হংকংয়ের আদালত গণতন্ত্রপন্থী মিডিয়া উদ্যোক্তা জিমি লাইকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ঐতিহাসিক রায়—গণতন্ত্রপন্থী শিল্পপতি জিমি লাই দোষী সাব্যস্ত, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ।
হংকংয়ের হাই কোর্ট সোমবার প্রখ্যাত শিল্পপতি ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারী জিমি লাইকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। চীন আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
এই মামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নজর কেড়েছে, কারণ ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের পর থেকে হংকংয়ে নাগরিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন। বেইজিং ওই বিক্ষোভগুলোকে চীনের শাসনের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে দেখেছিল।
৭৮ বছর বয়সী জিমি লাইয়ের সমর্থকরা তাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখলেও, চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে বিক্ষোভের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ এবং হংকং ও মূল ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে লবিংকারী হিসেবে বিবেচনা করে।
রায়ের সময় বিচারক এসথার তোহ আদালতে বলেন, লাই দীর্ঘদিন ধরে চীনের প্রতি ক্ষোভ ও বিরূপ মনোভাব পোষণ করে আসছিলেন। মামলার অন্য দুই বিচারক ছিলেন অ্যালেক্স লি ও সুসানা ডি’আলমাদা রেমেডিওস।
অ্যাপল ডেইলি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাই ইতোমধ্যে পাঁচ বছর কারাভোগ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। আদালত তাকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের দুটি অভিযোগ এবং রাষ্ট্রদ্রোহী প্রকাশনার ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
আগামী ১২ জানুয়ারি প্রাক-সাজা শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিনি লঘু দণ্ডের আবেদন করতে পারবেন। রায়ের পর আপিল করবেন কি না, তা সাজা ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি ও জাতীয় নিরাপত্তা পুলিশের প্রধান স্টিভ লি রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বিচার বিভাগ কোনো ধরনের চাপের কাছে নত হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো এই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় জিমি লাইয়ের বিষয়টি তুলেছিলেন এবং তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন বলে মন্তব্য করেছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, হংকংয়ের বিচারব্যবস্থা ন্যায্য ও স্বাধীন এবং বিদেশি দেশগুলোর মন্তব্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।
জিমি লাইয়ের পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন একাকী কারাবাসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং গত এক বছরে তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।