এক্সক্লুসিভ: ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ মিসাইল প্রতিরক্ষা প্রকল্পে দেরি ও চ্যালেঞ্জ

গোল্ডেন ডোম মিসাইল প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কিছু দেরি দেখা দিলেও পেন্টাগন বলছে কাজ চলমান এবং ২০২৮ লক্ষ্য এখনও অর্জনযোগ্য।

PostImage

এক্সক্লুসিভ: ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ মিসাইল প্রতিরক্ষা প্রকল্পে দেরি ও চ্যালেঞ্জ


ওয়াশিংটন, ২১ নভেম্বর — যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মিসাইল প্রতিরক্ষা উদ্যোগ ‘গোল্ডেন ডোম’ শুরুতেই কিছু দেরি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ৪৩ দিনের সরকারি কাজের অচলাবস্থা এবং বরাদ্দকৃত প্রথম ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিস্তারিত ব্যয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।

সরকারি অচলাবস্থার সময় নতুন কর্মী নিয়োগ থেমে যায় এবং চুক্তি অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অন্য কাজে পাঠানো হয়—যা প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রভাব ফেলেছে। প্রকল্পের বেশ কিছু অংশ গোপন থাকায়, সূত্রগুলো গোপনীয়তা বজায় রেখে এ তথ্য জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সপ্তম দিনে উন্মোচিত ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের লক্ষ্য—২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যালিস্টিক, হাইপারসনিক ও উন্নত ক্রুজ মিসাইল থেকে সুরক্ষিত রাখা। নির্ধারিত সময়ের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, পেন্টাগন বলছে প্রকল্পটি এগিয়ে যাচ্ছে এবং লক্ষ্য পূরণ এখনো সম্ভব।

কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়ার কথা থাকা ব্যয় পরিকল্পনা এখন ডিসেম্বর মাসে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি সেক্রেটারি অব ডিফেন্স স্টিভ ফেইনবার্গ। পরিকল্পনা অনুমোদন ছাড়া স্যাটেলাইট, ইন্টারসেপ্টর, গ্রাউন্ড সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচারের বড় চুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রতিরক্ষা চুক্তিতে দেরি স্বাভাবিক হলেও গোল্ডেন ডোমের দ্রুত সময়সীমার কারণে চাপ আরও বেড়েছে। শিল্পখাতের নেতারা সতর্ক করছেন—চুক্তিতে দেরি হলে ব্যয় বাড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউস আত্মবিশ্বাসী—এটি এক ‘ভিশনারি প্রকল্প’, এবং উন্নত প্রযুক্তি অর্জনে সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রকল্পের মূল আর্কিটেকচার ঠিক করা হয়েছে এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা চলছে। প্রকল্প পরিচালক জেনারেল মাইকেল গুয়েটলাইন ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সময়সীমা পূরণ করেছেন। তবে প্রকল্প টিমকে পূর্ণ সক্ষমতায় আনতে এখনো জনবল বাড়ানোর কাজ চলছে।

স্পেস-বেসড ইন্টারসেপ্টর তৈরি নিয়ে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদাররা ব্যয় ও ঝুঁকি বিবেচনা করে কিছুটা সতর্ক অবস্থায় আছে। এসব ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে কোম্পানিগুলোর আগাম শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি অগ্রগতি রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ‘আগাম সতর্কতা’ সিস্টেমগুলো একীভূত করার কাজ এগোচ্ছে, যা গোল্ডেন ডোমকে আরও দ্রুত ও সক্ষম করবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর