টারনোপিলে রাশিয়ার ড্রোন-মিসাইল হামলায় ২৫ জনের মৃত্যু—ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ।

পশ্চিম ইউক্রেনের টারনোপিলে রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছে। আবাসিক ভবনের ওপর তলা ধ্বংস হয়ে যায়, তিন শিশু নিহত, বহু মানুষ নিখোঁজ। জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

PostImage

টারনোপিলে রাশিয়ার ড্রোন-মিসাইল হামলায় ২৫ জনের মৃত্যু—ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ।


টারনোপিল, ইউক্রেন, ১৯ নভেম্বর (রয়টার্স) — পশ্চিম ইউক্রেনের শহর টারনোপিলে মঙ্গলবার গভীর রাতে রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হামলায় প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে মোট ৪৭৬টি ড্রোন ও ৪৮টি মিসাইল নিক্ষেপ করে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তি ও পরিবহন অবকাঠামোতে আঘাত হানে। তীব্র শীতের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে হয়।

টারনোপিলের একটি আবাসিক ভবনের উপরের তলাগুলো হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ভবন থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়, আর ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বাইরে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় ছিলেন।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ক্লাইমেনকো বলেন,
“নবম তলা থেকে প্রথম তলা পর্যন্ত যেন আগুনের লাভা মানুষের ওপর নেমে এসেছে। তারা পালানোর সুযোগই পায়নি, কারণ চারদিকে আগুন জ্বলে উঠেছিল।”

অধিকর্তারা জানান, মৃতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে এবং প্রায় ২৫ জন এখনো নিখোঁজ, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এক বাসিন্দা অক্সানা কোবেল বলেন, তার ছেলে হামলার সময় নবম তলায় ছিল।
তিনি বলেন, “আমি কাজে গিয়ে বিস্ফোরণ শুনলাম। তাকে ফোন করে বললাম—‘বোহদান, আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাও, কাপড় পরে নাও।’ সে বললো, ‘মা, আমি উঠে গেছি, সব ঠিক হবে।’”

হামলার পর ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রেজজোভ ও লুবলিন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান উড়ায়।

এই হামলা চালানো হয় এমন সময়, যখন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কে রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ পুনরায় জাগানোর লক্ষ্যে বৈঠকে যাচ্ছিলেন।

জেলেনস্কি বলেন,
“প্রতিটি বেপরোয়া হামলা প্রমাণ করে—রাশিয়ার ওপর চাপ এখনো যথেষ্ট নয়। কার্যকর নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দিলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।”

ইউক্রেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তারা এই “নৃশংস হত্যাকাণ্ড” জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আগামী সভায় তুলবেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের সাতটি অঞ্চলের শক্তি অবকাঠামো আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

লভিভ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উত্তর-পশ্চিমের খারকিভেও হামলা হয়েছে, আর রাজধানী কিয়েভে সাধারণ মানুষ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেয়।

রাশিয়া দাবি করেছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে টার্গেট করেনি। তারা বলছে, রাশিয়ার অঞ্চলগুলোতে “সন্ত্রাসী হামলার” জবাব হিসেবেই এই আঘাত। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন দক্ষিণ রুশ শহর ভোরোনেজে মার্কিন তৈরি ATACMS মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা রাশিয়ার ভেতরে শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর