অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কোন দল এগিয়ে যাবে?
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ হতে পারে, আর অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে দিতে পারে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আগামী দিনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
রয়টার্সের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো হলে ১০ কোটির বেশি মানুষ ভোট দিতে পারেন। নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ব্যয়ও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। বর্তমানে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যদিও ব্যবধান খুব বেশি নয়। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে। সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের চারটি আসনের নিট উন্নতি প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদি ডেমোক্র্যাটরা কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে প্রশাসনের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে করনীতি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সামাজিক কর্মসূচি নিয়ে তাদের অগ্রাধিকার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
নির্বাচনের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা এবং জ্বালানির ব্যয় ভোটারদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ পরিবারগুলোর কাছে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য এখন বড় বিষয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতির পাশাপাশি অভিবাসননীতিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিবাসন আইন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে দুই প্রধান দলের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি-আমেরিকানসহ বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের অনেকে প্রার্থীদের নীতি ও প্রতিশ্রুতির দিকে নজর রাখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য নির্বাচনের প্রভাব শুধু জাতীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষা, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা ও স্থানীয় পরিষেবার মতো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রাখেন। কংগ্রেসের সদস্যরা আবার ফেডারেল বাজেট, অভিবাসন আইন, করনীতি ও স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত আইন প্রণয়নে অংশ নেন।
তাই ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থীর অবস্থান, অতীতের কাজ এবং বাস্তবসম্মত নীতিগত প্রস্তাব যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব ও ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম পূরণকারী নাগরিকদের উচিত নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা।
নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। তবে ভোটের আগে কোনো দল নিশ্চিতভাবে জিতবে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফল, ভোটার উপস্থিতি এবং স্থানীয় ইস্যুগুলো শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে, বাড়ছে সুদের বোঝা

ডিজেলের বাড়তি দামে চাপে মার্কিন কৃষক, ট্রাম্পের গ্রামীণ ভোটে প্রভাবের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা



