রুশ হামলায় কিয়েভে ৬ জন নিহত, চোর্নোমরস্কে ২ জনের মৃত্যু

ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন হামলায় রাজধানী কিয়েভে ৬ জন এবং উপকূলীয় শহর চোর্নোমরস্কে আরও ২ জন নিহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা জরুরি তৎপরতা চালাচ্ছেন। ক্রমাগত হামলায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।

PostImage

রুশ হামলায় কিয়েভে ৬ জন নিহত, চোর্নোমরস্কে ২ জনের মৃত্যু


ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন এবং কৃষ্ণ সাগর উপকূলীয় শহর চোর্নোমরস্কে আরও দুইজন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে চালানো সমন্বিত এই হামলাকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কিয়েভে ভোরের দিকে একাধিক বিস্ফোরণে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও কয়েকটি আবাসিক এলাকায় সরাসরি আঘাত হানে, যাতে বহু মানুষ আহত হন এবং কয়েকটি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাকিরা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। তিনি বলেন, “রাশিয়া বারবার সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করছে। এগুলো যুদ্ধাপরাধ।”

অন্যদিকে ওডেসা অঞ্চলের চোর্নোমরস্ক শহরে একটি স্টোরেজ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হন। ওই হামলার পর সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া একাধিক দিক থেকে জটিল হামলা চালায়, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিহত করতে পারেনি। “এটি ছিল বহুস্তরীয় আক্রমণ। সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি,” বলা হয় এক বিবৃতিতে।

শীত শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে এমন হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিয়েভ ও ওডেসার কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা দিয়েছে।

হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার এই আক্রমণকে “নিষ্ঠুর” ও “ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে চালানো” বলে নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ উত্তেজনা কমাতে অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সবশেষে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “আমরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার উঠব। প্রতিটি হামলা আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করে।”