ভাঙনের দুঃসহ বাস্তবতা — নদীর পেটে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজারো মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারায় নদীভাঙনের ফলে। জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীর স্রোতের অনিশ্চয়তা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

PostImage

ভাঙনের দুঃসহ বাস্তবতা — নদীর পেটে বাংলাদেশ


বর্ষা এলেই বাংলাদেশের বিশাল নদীগুলো — ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা — প্রতি বছর গিলে খায় অসংখ্য জমি, ঘরবাড়ি আর মানুষের স্বপ্ন। নদীভাঙন এমন এক বিপর্যয়, যা ধীরে ধীরে হাজারো মানুষকে ভূমিহীন করে তুলছে।

৪৫ বছর বয়সী কৃষক আবদুল করিম বলেন, “এটা আমার তৃতীয় বাড়ি। নদী সবকিছু নিয়ে গেছে — ঘর, জমি, গবাদিপশু। এখন আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।”

পরিবেশ গবেষণা সংস্থা সিজিআইএস (CEGIS) জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি নদীভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন এই ধ্বংসযজ্ঞকে আরও তীব্র করছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অনেক গ্রাম রাতারাতি হারিয়ে যায় নদীর পেটে। যারা বেঁচে যান, তারা কিছুটা ভেতরে গিয়ে নতুন ঘর বাঁধেন, কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই নদী আবার এসে পড়ে সেই জায়গায়।

সরকার বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. ফারহানা ইসলাম বলেন, “নদীভাঙন শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয় — এটি এক মানবিক সংকট। আমাদের টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা দরকার।”

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত নদীভাঙন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নদীর ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে করিমের একটাই প্রশ্ন — “নদী তো থামে না, আমরা কিভাবে থামব?”

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর