নিউ জার্সিতে এফবিআই সেজে ভয়ংকর ডাকাতি, ৭ হাজার ৫০০ ডলার লুটে গ্রেপ্তার একজন

নিউ জার্সির নিউয়ার্কে এফবিআই কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীর বাসায় ঢুকে ৭ হাজার ৫০০ ডলার লুটের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, তিনজন পলাতক।

নিউ জার্সিতে এফবিআই সেজে ভয়ংকর ডাকাতি, ৭ হাজার ৫০০ ডলার লুটে গ্রেপ্তার একজন

নিউ জার্সিতে এফবিআই সেজে ভয়ংকর ডাকাতি, ৭ হাজার ৫০০ ডলার লুটে গ্রেপ্তার একজন


নিউ জার্সির নিউয়ার্কে এফবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একটি বাসায় ঢুকে ডাকাতির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় আরও তিনজন সন্দেহভাজন এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিজেদের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক নারীর দরজা খুলতে বাধ্য করে এবং পরে বাসায় ঢুকে তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ২৭ আগস্ট দুপুরে নিউয়ার্কের মট স্ট্রিট ও রেমন্ড বুলেভার্ড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঘটে। ভুক্তভোগী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। তিনজন ব্যক্তি তার দরজায় গিয়ে নিজেদের ফেডারেল কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয় এবং দরজা খোলার দাবি করে।


নারী দরজা খোলার পর সন্দেহভাজনরা জোর করে ভেতরে ঢুকে পড়ে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তাদের একজন ভুক্তভোগীকে সোফায় ঠেলে বসিয়ে ধরে রাখে। অন্যরা বাসার ভেতরে তল্লাশি চালায়। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা শোবার ঘরের একটি নিরাপদ বাক্স থেকে ৭ হাজার ৫০০ ডলার নিয়ে যায়। পাশাপাশি নারীর ব্যাগ থেকে দুটি ক্রেডিট কার্ডও নিয়ে নেওয়া হয়।


ঘটনার পর সন্দেহভাজনরা দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাইরে একটি কালো টয়োটা ক্যামরি সোলারা গাড়ি অপেক্ষা করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। গাড়িটির প্লেট ছিল অন্য অঙ্গরাজ্যের। পরে সেটি ফ্লেমিং অ্যাভিনিউ দিয়ে পূর্ব দিকে চলে যায়।


এই ঘটনায় নিউয়ার্ক পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। তদন্তের ভিত্তিতে ৪২ বছর বয়সী স্যামুয়েল প্রাটাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চুরি করে প্রবেশ, চুরি, বেআইনিভাবে কাউকে আটকে রাখা, সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে পুলিশের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীদের মতে, ওই তিনজনের মধ্যে দুজন বাসার ভেতরে ঢুকেছিল এবং আরেকজন বাইরে অপেক্ষা করা গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ জনগণের সহযোগিতা চাইছে।


ঘটনাটি নিউ জার্সির বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। কারণ শুধু বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা নয়, সন্দেহভাজনরা ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করেছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের পোশাক, পরিচয়পত্র বা গাড়ি দেখে অনেক সময় বিশ্বাস করে দরজা খুলে দিতে পারেন। কিন্তু এই ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে অপরাধীরা সেই বিশ্বাসকেই কাজে লাগাতে পারে।


ঘটনার কয়েক দিন আগে এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়ও জনগণকে একই ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। এফবিআই জানিয়েছে, অপরাধীরা নিজেদের এফবিআই, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বা সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। নতুন কৌশলের মধ্যে রয়েছে আসল ফেডারেল অফিসের ফোন নম্বর নকল করে ফোন করা এবং প্রকৃত কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করা।


এফবিআই আরও জানিয়েছে, কিছু প্রতারক এমনকি ভিডিও বৈঠকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। সেখানে তারা পেছনে এফবিআই কার্যালয়ের মতো পরিবেশ তৈরি করে এবং নিজেদের আসল কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে। ফলে শুধু ফোন নম্বর বা ভিডিও দেখেই কারও পরিচয় নিশ্চিত করা নিরাপদ নয়।


নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবারে বয়স্ক বাবা-মা, নতুন অভিবাসী অথবা ইংরেজিতে তুলনামূলক দুর্বল সদস্য থাকেন। কেউ যদি হঠাৎ নিজেকে ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বা টাকা দিতে চাপ দেয়, তাহলে আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


বাসায় কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে এলে পরিচয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহ হলে দরজা পুরোপুরি না খুলে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া যেতে পারে। জরুরি পরিস্থিতি না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল নম্বর নিজে খুঁজে ফোন করে পরিচয় যাচাই করা নিরাপদ পদ্ধতি। এফবিআই বিশেষভাবে জানিয়েছে, কোনো প্রকৃত ফেডারেল কর্মকর্তা ফোনে বা অন্যভাবে কাউকে টাকা পাঠাতে বলবেন না।


এফবিআইয়ের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, কেউ যদি নিজেকে ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করে, সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সন্দেহজনক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে নিজে খুঁজে পাওয়া সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করে যাচাই করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে এফবিআইয়ের জাতীয় যোগাযোগ নম্বরেও রিপোর্ট করা যায়।

নিউয়ার্কের এই ঘটনাটি অবশ্য ফোনভিত্তিক প্রতারণার চেয়ে আরও গুরুতর। এখানে পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, সন্দেহভাজনরা সরাসরি একটি বাসায় গিয়ে নিজেদের ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছে এবং জোর করে প্রবেশ করেছে। ফলে এটি শুধু প্রতারণা নয়, বাসায় হামলা, চুরি এবং একজন ব্যক্তিকে জোর করে নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগও তৈরি করেছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ঘটনাটি উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ অপরাধীরা যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে দরজা খোলাতে সক্ষম হয়, তাহলে ভবিষ্যতে একই কৌশল অন্য অপরাধীরাও ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে একা বসবাসকারী ব্যক্তি এবং বয়স্ক বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

পুলিশ এখন পলাতক তিন সন্দেহভাজনের সন্ধান করছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, নজরদারি ক্যামেরা, গাড়ির তথ্য এবং জনগণের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও কাছে ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানো উচিত।


এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া স্যামুয়েল প্রাটার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে পলাতক সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে নিউয়ার্কের এই ঘটনা নিউ জার্সির বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে দরজা খোলানো, ভয় দেখানো এবং অর্থ লুটের মতো ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানুষের নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, অপরিচিত কেউ নিজেকে এফবিআই বা অন্য কোনো ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিলে শুধু পরিচয় শুনে বিশ্বাস না করা। পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর