অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের মস্তিষ্ক, আচরণ ও শরীরের ওপর ফেলছে গভীর প্রভাব

ট্যাবলেটে মগ্ন শিশু থেকে শুরু করে সারাদিন ফোনে ব্যস্ত কিশোর—বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও সামাজিক দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

PostImage

অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের মস্তিষ্ক, আচরণ ও শরীরের ওপর ফেলছে গভীর প্রভাব


আজকের সমাজে শিশুর জীবনে স্ক্রিন যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক শিশুকে দেখা যায় স্ট্রলারে বসে আইপ্যাডে ডুবে আছে; এক কিশোর সারাদিন অনলাইন গেম খেলছে অচেনা বন্ধুদের সঙ্গে; আবার একদল কিশোর রেস্টুরেন্টে বসে কথা না বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা শুধুই অভ্যাস নয়—এটি এক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্ক্রিন টাইমের পরিসংখ্যান

আমেরিকান একাডেমি অফ চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি জানিয়েছে,

  • ২ থেকে ৫ বছরের শিশুরা প্রতিদিন গড়ে ৩.৫ ঘণ্টা,

  • ৮ থেকে ১০ বছরের শিশুরা ৬ ঘণ্টা,

  • ১১ থেকে ১৪ বছরের কিশোররা ৯ ঘণ্টা,

  • আর ১৫ থেকে ১৮ বছরের কিশোররা প্রায় ৭.৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে কাটায়।

প্রায় ৯৫ শতাংশ কিশোরের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে। তাদের প্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব, এরপর টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ও স্ন্যাপচ্যাট। ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ কিশোর অন্তত একবার এআই কম্প্যানিয়ন ব্যবহার করেছে—যাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মানসিক সমর্থন বা বন্ধুত্বের জন্য তা ব্যবহার করে।

শিশুদের মস্তিষ্কে প্রভাব

শিশুর মস্তিষ্কের প্রায় ৯০ শতাংশ বিকাশ প্রথম পাঁচ বছরে সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে:

  • বাস্তব যোগাযোগের অভাব: স্ক্রিন মুখোমুখি আলাপ ও খেলাধুলার সুযোগ কমায়, যা সামাজিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

  • ভাষা শেখার দেরি: শিশুর ভাষা বিকাশে প্রতিক্রিয়াশীল কথোপকথন প্রয়োজন, যা স্ক্রিন দিতে পারে না।

  • অতিরিক্ত উদ্দীপনা: রঙিন আলো ও গতিময় দৃশ্য চোখের মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত সক্রিয় করে, কিন্তু শ্রবণশক্তি-সম্পর্কিত অংশকে দুর্বল করে।

  • মস্তিষ্কের গঠন পরিবর্তন: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ-এর গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে সাত ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনে থাকে তাদের মস্তিষ্কের কর্টেক্স অংশ পাতলা হয়ে যায়—এ অংশটি যুক্তি ও চিন্তাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

  • বই বনাম স্ক্রিন: গবেষণায় দেখা গেছে, বই পড়লে মস্তিষ্কের যে অংশ সক্রিয় হয় তা সহানুভূতি ও সামাজিক বোঝাপড়া গড়ে তোলে, কিন্তু স্ক্রিনে সেই প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত।

এআই সঙ্গীর উত্থান

একসময় শিশুরা কল্পিত বন্ধু বানাত। এখন সেই বন্ধুর জায়গা নিচ্ছে এআই “কম্প্যানিয়ন”—যারা কথা বলে, অনুভূতি প্রকাশ করে এবং কখনো কখনো বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের স্ক্রিন টাইম সীমিত করতে হবে, বাইরে খেলাধুলা ও পারিবারিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহারে মানসিক চাপ, স্থূলতা ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।