চাকরির বাজারে এআইয়ের ঝড়: কারা হারাচ্ছে, কারা এগিয়ে যাচ্ছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত চাকরির বাজারে পরিবর্তন আনছে—অনেক কাজ অটোমেশনে চলে যাচ্ছে, আবার নতুন প্রযুক্তি ও ডেটাভিত্তিক পেশাও তৈরি হচ্ছে। তরুণরা দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে, প্রবীণরা কিছুটা সতর্ক। লিঙ্গভেদেও ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, ফলে এখনই প্রয়োজন এআই-সচেতনতা ও ন্যায্য নীতিমালা।
চাকরির বাজারে এআইয়ের ঝড়: কারা হারাচ্ছে, কারা এগিয়ে যাচ্ছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয় — এটি এখন বাস্তবতা, যা বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। উৎপাদন, ব্যাংকিং, শিক্ষা, সাংবাদিকতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই মানুষের কাজের ধরণকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।
এক সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৪০% প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহার করছে, এবং আরও ৩০% প্রতিষ্ঠান আগামী এক বছরের মধ্যেই এআই গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। অটোমেশন ও চ্যাটবটের কারণে অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ হারিয়ে যাচ্ছে, তবে সেই জায়গায় নতুন চাকরিও তৈরি হচ্ছে—যেমন প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা অ্যানালিস্ট, এবং এআই এথিকস বিশেষজ্ঞ।
গবেষকরা বলছেন, এখানে একটি বয়সভিত্তিক বিভাজন স্পষ্ট। তরুণ প্রজন্ম (১৮–৩৫ বছর) এআই ব্যবহার করতে বেশি আগ্রহী ও দক্ষ, বিশেষ করে গবেষণা, ডিজাইন ও সৃজনশীল কাজে। অপরদিকে, প্রবীণ কর্মীরা (৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে) তুলনামূলকভাবে সতর্ক, অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে থাকেন।
একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্যও। পুরুষরা মূলত প্রযুক্তিগত ও বিশ্লেষণধর্মী কাজে এআই ব্যবহার করেন, আর নারীরা ব্যবহার করেন যোগাযোগ, প্রকল্প পরিচালনা ও সৃজনশীল কাজে যেমন মার্কেটিং ও ডিজাইনে।
তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রশিক্ষণ ও সঠিক নীতিমালা না থাকলে এআই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে। তাই এখনই সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত “এআই লিটারেসি” বা এআই-সচেতনতা বাড়ানো, যাতে মানুষ প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, বরং সহযোগিতায় কাজ করতে শেখে।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, এআই শুধু চাকরি বদলাচ্ছে না — এটি চাকরির সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে।