ব্রুকলিনে পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে ৫৪ বছর বয়সী রেজিনাল্ড নিউকির্কের মৃত্যু, তদন্ত

ব্রুকলিনে পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত করছে পুলিশ এখন।

ব্রুকলিনে পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে ৫৪ বছর বয়সী রেজিনাল্ড নিউকির্কের মৃত্যু, তদন্ত

ব্রুকলিনে পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে ৫৪ বছর বয়সী রেজিনাল্ড নিউকির্কের মৃত্যু, তদন্ত


নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পুলিশ হেফাজতে থাকা ৫৪ বছর বয়সী রেজিনাল্ড নিউকির্ক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব ফ্ল্যাটবুশ এলাকায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৬৭ নম্বর থানায়। শনিবার দুপুরের পর থানায় থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের খবর দেওয়া হয়। পরে তাকে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 


পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর প্রায় ২টা ১০ মিনিটের দিকে থানায় থাকা একজন বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা থানায় পৌঁছে নিউকির্ককে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি কিংস কাউন্টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরদিন তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটির মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পুলিশও তার অসুস্থ হয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। 


নিউকির্ককে এর আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতের প্রকাশ্য নথি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগ আনা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তার শারীরিক অবস্থার জন্য তাকে একবার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলেও নিউইয়র্কের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। 


এর পরদিন আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশ সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, থানার হেফাজত কক্ষে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডেকে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার দুপুরের এই ঘটনাটিই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত হয়। তবে তিনি ঠিক কী ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, তিনি অচেতন হয়েছিলেন কি না, কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার অবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। 


নিউকির্ক যে থানায় ছিলেন, সেটি ব্রুকলিনের ৬৭ নম্বর থানা। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, থানাটির ঠিকানা ২৮২০ স্নাইডার অ্যাভিনিউ এবং এটি পূর্ব ফ্ল্যাটবুশ ও রেমসেন ভিলেজ এলাকার দায়িত্ব পালন করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলকে স্নাইডার অ্যাভিনিউ ও নস্ট্র্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকার কাছাকাছি পূর্ব ফ্ল্যাটবুশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি নথিতে থানাটির ঠিকানা স্নাইডার অ্যাভিনিউতে দেওয়া আছে। 


নিউকির্কের মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাহিনী তদন্ত বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তের উদ্দেশ্য হলো হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা কীভাবে খারাপ হলো, তাকে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, কখন জরুরি সহায়তা ডাকা হয়েছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার মৃত্যুর জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা কারও দায় আছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। 


ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন নিউইয়র্ক শহরে পুলিশ হেফাজতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাবের মধ্যে অবশ্য পার্থক্য রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে নিউকির্কের মৃত্যুকে চলতি বছরে নিউইয়র্ক শহরে পুলিশ হেফাজতে অষ্টম মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এটি অন্তত ষষ্ঠ মৃত্যু। এই দুই সংখ্যার পার্থক্যের কারণ হলো, প্রতিবেদনে মৃত্যুর শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতি এক নয়। তাই নিউকির্কের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সংখ্যা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 


নিউইয়র্কে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের তুলনায় ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে থাকেন। গ্রেপ্তারের পর একজন ব্যক্তির শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া মৃত্যুঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নিউকির্কের ক্ষেত্রে তার আগে কোনো শারীরিক অসুস্থতা ছিল কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।


নিউকির্কের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটিও এখন পর্যন্ত কেবল একটি অভিযোগ। আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ওই অভিযোগে দোষী বলা যায় না। তিনি মৃত্যুর সময় বিচারকের সামনে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। 


এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুলিশ এখনো নিউকির্কের মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ জানায়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলেও তার মৃত্যুর পেছনে কী ধরনের শারীরিক সমস্যা কাজ করেছে, সেটি চিকিৎসা ও ময়নাতদন্তের তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অনুমান করা তাই এই মুহূর্তে দায়িত্বশীল হবে না ।তদন্তকারীরা পুলিশের হেফাজতে থাকার সময়কার ঘটনা এবং হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করতে পারেন।


স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিউকির্কের মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশকে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হলেও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর থেকে রবিবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পূর্ণ ধারাবাহিকতা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রথম হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে কেন আবার পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল এবং শনিবার অসুস্থ হওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থা কী ছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত থেকে পাওয়া যেতে পারে। 


ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শনিবার অসুস্থ হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এটি নিশ্চিত করে যে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ডাকা হয়েছিল এবং তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তিনি রবিবার সকালে মারা যান। তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। 


নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৭ নম্বর থানাটি পূর্ব ফ্ল্যাটবুশ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশকেন্দ্র এবং এর আওতায় বিস্তৃত জনবসতি রয়েছে। থানাটির সরকারি ঠিকানা স্নাইডার অ্যাভিনিউতে। এই থানায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তদন্তের অংশ হতে পারে। 


রেজিনাল্ড নিউকির্কের মৃত্যু তাই শুধু একজন বন্দির মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসা, নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রশ্নের কোনোটি থেকে পুলিশ বা অন্য কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যাবে না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তদন্তের ফল, চিকিৎসা ও ময়নাতদন্তের তথ্য এবং আদালতের নথিতে থাকা পরবর্তী তথ্য প্রকাশ্যে আসা।


বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো, ৫৪ বছর বয়সী রেজিনাল্ড নিউকির্ককে শুক্রবার নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, শনিবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং রবিবার সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ঘটনা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাহিনী তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। 


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর