জামিন ছাড়াই অভিবাসী আটক, ট্রাম্পের নীতির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জামিন শুনানি ছাড়া আটক রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বৈধ কি না, এবার সিদ্ধান্ত দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

জামিন ছাড়াই অভিবাসী আটক, ট্রাম্পের নীতির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই

জামিন ছাড়াই অভিবাসী আটক, ট্রাম্পের নীতির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই


যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কঠোর অভিবাসন নীতি পর্যালোচনা করতে সম্মত হয়েছে। এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিছু অনিবন্ধিত অভিবাসীকে নির্বাসন কার্যক্রম চলাকালে জামিন শুনানির সুযোগ না দিয়েই আটক রাখা হতে পারে। বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 


মামলাটির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কোনো অভিবাসীকে আটক করার পর তিনি আদৌ একজন অভিবাসন বিচারকের সামনে জামিনের আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না। সরকার যদি শুনানি ছাড়াই তাকে আটক রাখে, তাহলে সেই ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে সর্বোচ্চ আদালত। 


ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থানরত কিছু অভিবাসীকে এমন একটি আইনি শ্রেণির আওতায় রাখা হয়, যার ফলে তাদের নির্বাসন প্রক্রিয়া চলাকালে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার পক্ষে সরকার যুক্তি দিতে পারে। এই ব্যাখ্যা আগের কয়েক দশকের প্রচলিত চর্চা থেকে বড় পরিবর্তন।


আগের ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বসবাসরত অনেক অভিবাসী গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিবাসন বিচারকের কাছে জামিন শুনানির আবেদন করতে পারতেন। সেখানে বিচারক সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, জননিরাপত্তার ঝুঁকি এবং অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণ করতেন। নতুন নীতিতে সেই সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 


সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৯৯৬ সালের ফেডারেল অভিবাসন আইনের নির্দিষ্ট ধারাগুলো এই ধরনের বাধ্যতামূলক আটকের আইনি ভিত্তি দেয়। প্রশাসনের যুক্তি হলো, আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের নির্বাসন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখা সরকারের বৈধ ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। 


অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে কাউকে জামিনের সুযোগ না দিয়ে আটক রাখা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত এবং কেউ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি কি না বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে কি না, সেটি বিচারকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


এই আইনি বিরোধ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। আবার অন্তত দুটি ফেডারেল আপিল আদালত সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একই অভিবাসন আইনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। 


এই বিভক্ত অবস্থার কারণেই সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আদালত যদি প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক আটক নীতির আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হতে পারে। অন্যদিকে অভিবাসীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত এলে সরকারকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জামিন শুনানির সুযোগ দিতে হতে পারে। 


মামলাটি রুনি বনাম বারবোসা দা কুনহা নামে সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মামলায় রিকার্ডো আপারেসিডো বারবোসা দা কুনহা নামে এক ব্রাজিলীয় নাগরিকের ঘটনা রয়েছে। তিনি বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং নির্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আটক হওয়ার পর জামিন শুনানির সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে এসেছে।


এই মামলার সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সীমান্তে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন বসবাসকারী, পরিবার গড়ে তোলা এবং কাজ করা বহু অনিবন্ধিত অভিবাসীর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, নেপালি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যেও মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এই মামলার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব অনিবন্ধিত অভিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে জামিনের সুযোগ হারিয়েছেন। বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি অবস্থান, কোন আইনের অধীনে তাকে আটক করা হয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত ব্যাখ্যার ওপর।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে সরকার কতটা বিস্তৃতভাবে অভিবাসীদের আটক করতে পারবে এবং আটক ব্যক্তিদের বিচারিক পর্যালোচনার অধিকার কতটা থাকবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সীমা নির্ধারিত হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর