ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা, পাঠানো হয়েছে অস্ত্র ও ড্রোন
ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের পাশে থাকা পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে করে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা, পাঠানো হয়েছে অস্ত্র ও ড্রোন
ইয়েমেনে সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পাকিস্তান অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে করে এসব সরঞ্জাম ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পাঠায়। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পাঠানো সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা। ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। প্রস্তাবিত অভিযানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি স্থলবাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে এবং সৌদি আরব আকাশপথে সহায়তা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও তুরস্কের দেওয়া সামরিক সরঞ্জামও সৌদি নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে কোনো একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা বাড়লেও দেশটি ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ করার জন্য সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য নেই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সৌদি আরবের নিরাপত্তায় বড় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করলেও ইয়েমেনের ভেতরে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি।