ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের দাবি, রাশিয়াকে জবাব দিতে বাধ্য করা হয়েছিল
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান ফের তুলে ধরেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর দাবি, রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের দাবি, রাশিয়াকে জবাব দিতে বাধ্য করা হয়েছিল
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ নিয়ে আবারও রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ১ অক্টোবর ২০২৬ মস্কোতে অনুষ্ঠিত ভালদাই আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন দাবি করেন, রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে দেশটি শেষ পর্যন্ত কথিত আগ্রাসনের জবাব দিতে বাধ্য হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া নিজে যুদ্ধ চায়নি; বরং দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যার পরিণতিতে মস্কোর সামনে সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
পুতিন তাঁর বক্তব্যে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাতের পেছনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিরোধ, ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং রাশিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে পশ্চিমা চাপের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইউক্রেনে রুশ জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈরিতা এবং রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করার প্রচেষ্টাও সংঘাতের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পরিস্থিতির ধারাবাহিকতার মধ্যেই রাশিয়া সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এসব বিষয় পুতিন ও রাশিয়া সরকারের অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা জরুরি। ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলো যুদ্ধের কারণ ও রাশিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই মস্কো তার পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করে আসছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। ফলে যুদ্ধের সূচনা, কারণ এবং দায় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
ভালদাই আলোচনায় পুতিন একই সঙ্গে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, বর্তমান সংঘাতকে তিনি রাশিয়ার ওপর তৈরি হওয়া দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও নিরাপত্তা সংকটের পরিণতি হিসেবে দেখছেন। তবে এই ব্যাখ্যা পুতিনের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান—এটিকে যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে সর্বসম্মত বা নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।