ভিভালদি অভিযানে বড় অগ্রগতি, ১৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখলের দাবি ইউক্রেনের

ডনবাসের লিমান এলাকায় ‘ভিভালদি’ অভিযানে ১৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখলের দাবি করেছে ইউক্রেন। চতুর্থ ধাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে স্থল রোবট ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন জেলেনস্কি।

ভিভালদি অভিযানে বড় অগ্রগতি, ১৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখলের দাবি ইউক্রেনের

ভিভালদি অভিযানে বড় অগ্রগতি, ১৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখলের দাবি ইউক্রেনের


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ৩০ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলের লিমান ফ্রন্টে গিয়ে ‘অপারেশন ভিভালদি’তে অংশ নেওয়া সেনা ও কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইউক্রেনের সরকারি তথ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় আর্মি কোরের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানের প্রথম তিন ধাপে ইউক্রেনীয় বাহিনী উত্তর দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইউক্রেনের দাবি, অভিযানের শুরু থেকে মোট ১৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে ফিরেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় ধাপে আরও ৫১ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখলের দাবি করা হয় এবং নোভে, রিদকোদুব ও কাটেরিনিভকা পুনর্নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কারপিভকা ও নোভোমিখাইলিভকার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা জানানো হয়।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ভিভালদি অভিযানের মাধ্যমে রুশ বাহিনীর স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের পেছনের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই অংশের প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে। ইউক্রেনীয় পক্ষ আরও দাবি করেছে, অভিযানের বিভিন্ন ধাপে রুশ বাহিনীর ৫ হাজারের বেশি সেনা নিহত ও আহত হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন রুশ সেনা আটক হয়েছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা ইউক্রেনীয় পক্ষের হিসাব এবং চলমান যুদ্ধের কারণে এর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

বৈঠকে জেলেনস্কি অভিযানে সরাসরি যুক্ত ইউনিটগুলোর কমান্ডারদের সঙ্গে তাদের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে কামান ও দূরপাল্লার গোলাবারুদ, সেনাদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সামরিক সরঞ্জামের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্থলভিত্তিক রোবোটিক ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, যেসব বিপজ্জনক কাজ মানুষের জন্য করা কঠিন বা ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব কাজে সম্ভব হলে স্থল রোবট ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিভালদি অভিযানে এ ধরনের প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তৃতীয় আর্মি কোরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের তৃতীয় ধাপে পুরোনো সাঁজোয়া যানকে চালকবিহীন বিস্ফোরক রোবোটিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করে রুশ প্রতিরক্ষা অবস্থানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। ইউক্রেনীয় বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামনের সারিতে সেনাদের সরাসরি ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি রুশ প্রতিরক্ষা অবস্থানে আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন ভিভালদি অভিযানের চতুর্থ ধাপের সক্রিয় কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সামনের সারির বিপজ্জনক কাজে মানুষের পরিবর্তে ড্রোন ও রোবোটিক ব্যবস্থা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর